আসন্ন কালীপুজো ও দীপাবলি উৎসবকে ঘিরে শহরে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করল কলকাতা পুলিশ। শহরে ফানুস বিক্রি বা কেনা কোনও অবস্থাতেই বরদাস্ত করা হবে না, স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। দমকল দফতরের ২০১৯ সালের নির্দেশিকাকে ভিত্তি করে এই কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। নিষিদ্ধ বাজির তালিকায় ফানুসও অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তার ব্যবহার বা ব্যবসা করলে আইনের পথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে কালীপুজো কমিটি, থানার ওসি ও অ্যাডিশনাল ওসিদের উপস্থিতিতে লালবাজারের তরফে আয়োজিত সমন্বয় বৈঠকে এই বার্তা দেন কমিশনার। তিনি জানান, উৎসবের আবহ বজায় থাকলেও নিরাপত্তায় কোনও রকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। বিশেষ করে বহুতল আবাসন ও আবাসিক কমপ্লেক্সে বাজি পোড়ানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সবুজ বাজির ব্যবহার এক্ষেত্রে নিষিদ্ধ নয়।
এদিনের বৈঠকে পুজো উদ্যোক্তারা দুর্গাপুজোর মতো কালীপুজোতেও কার্নিভালের দাবি তোলেন এবং সমান সুবিধার আবেদন জানান। শহরে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কালীপুজো কমিটির মধ্যে ২৮০০টি পুজোকে ইতিমধ্যেই অনুমোদন দিয়েছে লালবাজার। প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নির্দিষ্ট দিন ও সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে ২১, ২২ এবং ২৩ অক্টোবর। নির্ধারিত সময় মেনে বিসর্জন সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সকল কমিটিকে।

শব্দদূষণ রুখতে ডিজে ও উচ্চস্বরে মিউজিক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে কালীপুজো ও ভাসানের সময়। পুলিশ ইতিমধ্যেই এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে এবং প্রয়োজনে অভিযান চালানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছে। কলকাতা পুরসভার বোরো চেয়ারম্যান দেবলীনা বিশ্বাস জানান, নাগরিকদের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ উৎসব নিশ্চিত করতে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।