প্রথম দফার ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করলেন গোপীবল্লভপুরের বিদায়ী বিধায়ক খগেন্দ্রনাথ মাহাতো। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে ২৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে গোপীবল্লভপুরে জয়ী হয়েছিলেন খগেন্দ্রনাথ। এহেন নেতাকে এবারের বিধানসভা ভোটে টিকিট দেয়নি তৃণমূল কংগ্রেস। আর এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের একদিন আগে শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি।
গোপীবল্লভপুর বিধানসভা কেন্দ্রে কুড়মি ভোট একটা বড় ফ্যাক্টর। এই কেন্দ্রের প্রায় ৩৫ শতাংশের বেশি ভোটার কুড়মি সম্প্রদায়ের। গোপীবল্লভপুর ২ সহ একাধিক ব্লকে কুড়মিদের ভালো প্রভাব রয়েছে। এই আবহে গোপীবল্লভপুরে জিততে তৃণমূল এবং বিজেপি, উভয় দলই কুড়মিদের কাছে টানতে চাইছে। এই আবহে গোপীবল্লভপুরে এবার বিজেপির প্রার্থী রাজেশ মাহাতো। তিনি দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গ কুড়মি সমাজের রাজ্য সভাপতি ছিলেন। আর তৃণমূল এবার প্রার্থী করেছে ঝাড়গ্রাম পুরসভার দীর্ঘদিন কাউন্সিলর থাকা অজিত মাহাতোকে। এই আবহে বিদায়ী বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় কুড়মি ভোটাররা কতটা গেরুয়া শিবিরের দিকে ঝুঁকবে, তা বোঝা যাবে আগামী ৪ মে।
এমনিতে গোপীবল্লভপুরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার তৃণমূল কংগ্রেস। এর আগে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে সেভাবে প্রচারে দেখা যায়নি খগেন্দ্রনাথকে। মনোনয়ন পেশের মিছিলে তিনি ছিলেন। সেখানেও আবার লোকসভার প্রার্থীর আগে আগে হাঁটছিলেন বলে জেলা তৃণমূল সভাপতি দুলাল মুর্মুর ধমক শুনতে হয়েছিল খগেন্দ্রনাথকে। এই পরিস্থিতিতে লোকসভা ভোটের সময় অজিত মাহাতোকে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অজিত মাহাতো এবার প্রার্থী হয়েছেন গোপীবল্লভপুরে। উল্লেখ্য, ২০১১ সাল থেকেই এই বিধানসভা আসনটি নিজেদের দখলে রেখেছে তৃণমূল। এবার ভোটের একদিন আগে বিদায়ী বিধায়কের দলবদলে সেই সমীকরণ বদলায় কি না, সেটাই দেখার।
