প্রথম দফার ভোটগ্রহণের দিন অভিনব কায়দায় ভোটারদের প্রভাবিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠল হাসন বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী কাজল শেখের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার পাপুড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তিনি বেরনোর পরেই বুথের বাইরে এক অদ্ভুত ছবি চোখে পড়ে। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
এদিন দেখা যায়, ভোট দিয়েই ভোটারদের কাছে হাজির হন হাসনের প্রার্থী কাজল শেখ। ভোট দিয়ে বেরলেই সাধারণ মানুষকে জমিয়ে মুড়ি এবং তরকারি দিয়ে আপ্যায়ন করা হচ্ছে। আগে থেকেই আয়োজকরা জানাচ্ছেন, ভোট দিলেই মুড়ি-তরকারি পাওয়া যাবে। কিন্তু কে খাওয়াচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তরে খোদ আয়োজকরাই নির্দ্বিধায় জানান যে, কাজল শেখের নির্দেশেই ভোটারদের জন্য এই খাওয়াদাওয়ার ঢালাও আয়োজন করা হয়েছে। কাজল শেখ পাপুড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরই দেখা গিয়েছে এই ছবি। অন্যদিকে এদিন নিজের বুথে ভোট দিয়ে বেরিয়ে কাজল শেখ জেলার ১১ টি আসনেই জেতার দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, বিরোধীরা জেলায় খাতা খুলতে পারবে না। তাঁর বক্তব্য, ‘নির্বাচন কমিশন কারও দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। কিন্ত এ সব করেও কিছু হবে না।’
শুধু মুড়ি-তরকারির আসরই নয়, বুথের অদূরে রীতিমতো একটি ডামি বা মডেল ইভিএম রেখে প্রচার চালানোরও অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের বিরুদ্ধে। ওই ডামি মেশিনে নানুর কেন্দ্রের ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী বিধানচন্দ্র মাজির ছবি ও তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রতীক এঁকে সাধারণ ভোটারদের হাতেকলমে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে, মেশিনের ঠিক কোন বোতামটি তাঁদের টিপতে হবে। একদিকে খাবার বিলি করা এবং অন্যদিকে ডামি ইভিএম দেখিয়ে সরাসরি ভোটারদের প্রভাবিত করার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পূর্ণ শিকেয় তুলে বুথের দোরগোড়ায় প্রকাশ্যে এই ধরনের কার্যকলাপ অত্যন্ত বেআইনি।
