রাজনীতির আঙিনায় সাম্প্রদায়িক তত্ত্ব! ফের বিতর্কে হুমায়ুন

Spread the love

২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক পারদ বাড়ছে। আর এই অবস্থায় বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের। সোমবার ভোটপ্রচারে ফের সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমার পিছনে লাগলে হিন্দু-মুসলিম করবই।’ আর তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে।

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে মাঠে নামলেও বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে কার্যত একঘরে হুমায়ুন কবীর। জোটের জল্পনা থাকলেও শুরুতেই বামফ্রন্ট তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আসাদউদ্দিন ওয়েসির দল ‘মিম’ শুরুতে পাশে থাকলেও বিজেপির সঙ্গে আঁতাতের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর তারাও জোট ভেঙে দেয়। ফলত একলা চলো নীতি ছাড়া গতি নেই হুমায়ুনের। সোমবার সন্ধ্যায় মুর্শিদাবাদের কান্দির হিজলে হুমায়ুন জনসভা করলেও সেখানে মিমের কোনও পতাকা-ব্যানার ছিল না। ছিলেন না প্রার্থীও। উল্লেখযোগ্যভাবে ওই আসনে প্রার্থী দিয়েছিল মিম। সেই জনসভা থেকে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘কান্দিতে মিমের প্রার্থী মিসবাউল হক আমার ঘনিষ্ঠ। তাঁর সমর্থন আমি প্রচার করতে এসেছি, ওর শরীর খারাপের কারণে আসতে পারেননি।’

এরপরেই নিজের সাম্প্রদায়িক অবস্থানের পক্ষে সাফাই গেয়ে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘আমি হিন্দু-মুসলমান করি তখনই যখন কোনও অমুসলিম আমার পিছনে লাগতে আসে। যারা ৩০ শতাংশ তাঁদের আমি ছেড়ে কথা বলব না। ৩০ শতাংশকে ৩০ শতাংশের মতো থাকতে হবে। আমরা ৭০ শতাংশ ৭০ শতাংশের মতো থাকব। সামশেরগঞ্জের মতো কান্দিতে যেন না হয়।’ সামশেরগঞ্জের উদাহরণ টেনে কান্দিতেও একই কায়দায় ক্ষমতা জাহির করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হতেই তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি এবং বাম-কংগ্রেস নেতৃত্ব। রাজনৈতিক মহলের মতে, সব দল ত্যাগ করার পর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই তিনি মেরুকরণের তাস খেলছেন। বিরোধী দলগুলোর দাবি, এই ধরণের উস্কানিমূলক মন্তব্য নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে। নির্বাচন কমিশনের উচিত অবিলম্বে এর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া। মুর্শিদাবাদের মতো স্পর্শকাতর জেলায় এই ধরণের বক্তৃতার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যাতে না ঘটে, সেদিকে কড়া নজর রাখছে স্থানীয় প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *