ফিনল্যান্ডের স্বাধীনতার ১০৮ বছরের ইতিহাস

Spread the love

স্বাধীনতার ১০৮তম দিবস উদযাপন করছে ফিনল্যান্ড। পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী দেশটির স্বাধীনতার ইতিহাস খুব একটা সুখকর ছিল না। সুইডিশ শাসন থেকে রাশিয়ার সাম্রাজ্য, তারপর যুদ্ধের কঠিন সময়; সব পেরিয়ে দেশটি আজ শান্তি আর স্থিতিশীলতার প্রতীক।

১৮০০ দশকের শেষ ভাগ থেকে নিজেদের ভাষা, গান, লোকসংস্কৃতি আর লোকনৃত্যকে জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে জোর দিতে শুরু করে ফিনল্যান্ড। তখনকার মনে করা হতো, ফিনিশ সংস্কৃতির আলাদা পরিচয়ই স্বাধীনতার ভিত তৈরি করবে।

ফিনল্যান্ডের স্বাধীনতা ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি ‘ইয়েগার মুভমেন্ট’। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৫ সালে হয় সেই আন্দোলন। রাশিয়ার সাম্রাজ্য থেকে মুক্তি পেতে গোপনে জার্মানি গিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ নেন প্রায় দুই হাজার তরুণ ফিনিশ।

১৯১৭ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করে ফিনল্যান্ড। ১৯১৮ সালে স্বাধীনতার পক্ষের হোয়াইট বাহিনী বনাম রাশিয়ার বলশেভিকদের সমর্থনপুষ্ট রেড বাহিনীর মধ্যে শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। জার্মানিতে প্রশিক্ষণ নেয়া ইয়াগ্যার বাহিনীর নেতৃত্বে হোয়াইট বাহিনী জয়লাভ করে।

দেশের স্বাধীনতার পেছনে বড় ভূমিকা রাখা একজন ইয়াগ্যার বাহিনীর ‘গুন্নার এমিল ভন হার্টজেন’। তিনি ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল। যুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ক্রস অব লিবার্টি পদক এবং নাইট উপাধিতে ভুষিত হন।

গুন্নারের নাতি কাইভন হের্তজেন সময় সংবাদের কাছে তুলে ধরেন তার দাদার বীরত্বগাথা।

তিনি বলেন,

এটা আমার দাদা ‘গুন্নার এমিল ভন হের্তজেন। ফিনল্যান্ডের স্বাধীনতার জন্য লড়াই সংগ্রাম করেছেন কিশোর বয়স থেকে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি জার্মানিতে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। পরে গৃহযুদ্ধে অংশ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা আনেন। হোয়াইট আর্মিতে মেজরের পদে ছিলেন। ফিনল্যান্ডের স্বাধীনতার সময় দাদার সেই সাহস আর অবদানে আমি স্বাভাবিকভাবেই গর্বিত, অনুপ্রাণিত।

১৯১৭ সালে রাশিয়ায় বলশেভিক বিপ্লব সাম্রাজ্যকে দুর্বল করে। সেই সুযোগেই ফিনল্যান্ডের পার্লামেন্ট ৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা ঘোষণা করে। একই বছর রাশিয়া সেই স্বাধীনতা স্বীকৃতি দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *