সম্প্রতি যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আন্তর্জাতিক ফুটবল তারকা লিওনেল মেসিকে নিয়ে যা ঘটে গেল, তা হয়তো ১০০ বছর পরেও মানুষের মনে থেকে যাবে। এটি শুধু কলকাতার জন্য নয়, গোটা ফুটবল প্রেমিক মানুষদের জন্যই ভীষণ লজ্জাজনক একটি ঘটনা। এই গোটা ঘটনায় মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তর বিরুদ্ধে সমস্ত ক্ষোভ উগরে দেন দর্শকরা।মাত্র ২০ মিনিট মাঠে থাকার পর মেসি যখনই মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান ঠিক তখনই উত্তপ্ত হয়ে যায় গোটা যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। মেসির সঙ্গে কলকাতা ছাড়ার চেষ্টা করলেও শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করা হয় এয়ারপোর্ট থেকে। যদিও এই গোটা ঘটনার জন্য অনেকেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে দায়ী করছেন আবার অনেকে দায়ী করছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে।
লিওনেল মেসি যখন মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান, ঠিক তখনই মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও। যদিও তার কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত সৌরভকে দেখা গিয়েছিল মাঠের মধ্যে অস্থায়ী টেন্টে দাঁড়িয়ে থাকতে। এসবের মধ্যে এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় আর্জেন্টিনার ফুটবল দলের এক ফ্যান ক্লাব সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কটুক্তি করায় লালবাজারে পুলিশের দ্বারস্থ হন মহারাজ।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, ওই ফ্যান ক্লাবের কর্তা অর্থাৎ উত্তম সাহা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে কিছু আপত্তিজনক মন্তব্য করেছেন, যা একেবারেই অভিপ্রেত নয়। এই ঘটনা সামনে আসার পরেই মহারাজ লালবাজারে অভিযোগ দায়ের করেন। কলকাতা পুলিশের সাইবার সেলে একটি ইমেল মারফত তিনি গোটা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বিষয়টি দেখার অনুরোধ করেছেন।সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় অভিযোগ পত্রে লিখেছেন, জনৈক ওই ব্যক্তি জেনেশুনে তাঁর বিরুদ্ধে কিছু মিথ্যা, আপত্তিকর এবং মানহানিকর মন্তব্য লিখেছেন, যার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। এমন কিছু গুরুতর অভিযোগ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এনেছেন ওই ব্যক্তি, যা সৌরভের ভাবমূর্তি নষ্ট করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

লালবাজারে পাঠানো ওই চিঠিতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় আরও লেখেন, তিনি এক দশকের বেশি সময় ধরে একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে দেশে এবং বিদেশে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন। কিন্তু সেই সুনাম যদি কোনও ব্যক্তির মন্তব্যের ফলে নষ্ট হয় তা কিছুতেই মেনে নেবেন না তিনি। তাই এই গোটা ঘটনাটি নিয়ে পুলিশকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন মহারাজ।