পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আবহে একাধিকবার শিরোনামে উঠে এসেছিল কালীঘাট থানা। নির্বাচনের সময় নানা টানাপোড়েন মধ্যেই এক মারাত্মক বিতর্কে জড়িয়ে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন কালীঘাট থানার তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বা ওসি গৌতম দাস। সেই সময় পরিস্থিতি এতটাই শোরগোল ফেলে দিয়েছিল যে, লালবাজারের তরফে তাঁকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত বা সাসপেন্ডও করা হয়েছিল। এবার সেই বিতর্কিত পুলিশ আধিকারিক গৌতম দাসকে সরাসরি রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্নে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হল। রাজ্যে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর কলকাতা পুলিশের অন্দরে এই রদবদল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বিতর্কের সূত্রপাত
নির্বাচন চলাকালীন গৌতম দাসের একটি ছবিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই ছবিতে দেখা গিয়েছিল, পুলিশের উর্দি পরিহিত গৌতম দাস থানার ভেতর নিজের চেয়ারে বসে অত্যন্ত আয়েশ করে একটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র বা বন্দুক হাতে নিয়ে পোজ দিচ্ছেন। পরবর্তীতে জানা যায়, গৌতম দাস নিজেই অত্যন্ত উৎসাহী হয়ে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং হোয়াট্সঅ্যাপ স্টেটাসে সেই ছবিটি পোস্ট করেছিলেন। যদিও এই ছবির সত্যতা কোনও পক্ষ থেকেই নিশ্চিত করা হয়নি, তবুও তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে প্রথম থেকেই এই ছবি নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলা হয়। প্রবীণ তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার প্রথম এই বিতর্কিত ছবিটি সংবাদমাধ্যমের সামনে নিয়ে আসেন এবং ক্ষোভ উগরে দেন। তৃণমূল নেতার স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ আধিকারিকের এই ধরণের ছবি স্রেফ সামাজিকভাবেই অস্বস্তিকর নয়, বরং আইনের চোখেও অত্যন্ত আপত্তিকর ও বেআইনি। ছবিটির ভঙ্গি দেখে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল যে, তিনি ওই অত্যাধুনিক বন্দুকটি তাক করে কাউকে নিশানা করার চেষ্টা করছেন।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় এবং তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয় লালবাজার। গৌতম দাসকে ওসির পদ থেকে সাসপেন্ড করা হয়। শূন্য হওয়া সেই পদে কালীঘাট থানার নতুন ওসি হিসাবে দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয় চামেলি মুখোপাধ্যায়কে। যদিও নির্বাচনকালীন ডামাডোলের জেরে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের কালীঘাট থানার ওসির চেয়ারে রদবদল ঘটানো হয়েছিল। চামেলি মুখোপাধ্যায়কে সরিয়ে তাঁর জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছিল বলাই বাগকে। তবে রাজ্যে ভোট মিটে রাজনৈতিক পালাবদলের পর, এবার কলকাতা পুলিশের সাউথ ডিভিশনে কর্মরত সেই বিতর্কিত আধিকারিক গৌতম দাসকে নবান্নে বদলি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।