মহিলা সাংসদের উপর অশালীন…! সব পদ ছাড়লেন কাকলি

Spread the love

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলতে থাকা টানাপোড়েনের মাঝেই বড় ধাক্কা। এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সব দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বুধবার দলের সভাপতি সুব্রত বক্সিকে চিঠি লিখে সমস্ত দলীয় পদ থেকে তৃণমূল সাংসদ ইস্তফা দিয়েছেন বলে খবর। মঙ্গলবারই কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন বারাসতের তৃণমূল সাংসদ। তার আগে তৃণমূলের বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। যদিও ‘দল ছেড়ে যাচ্ছি না’ বলে তৃণমূলকে আশ্বস্ত করেও কাকলির বক্তব্য, ‘অত্যন্ত দুঃখ ও উদ্বেগের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমি অল ইন্ডিয়া তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন পদ-সহ দলের অন্যান্য সাংগঠনিক পদ, কমিটি ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইছি।’ তাঁর এই পদত্যাগের সিদ্ধান্তে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই বেসুরো তৃণমূলের একাংশ। গত রবিবারই বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেই ইস্তফা গৃহীত হওয়ার পর দল দ্রুত তাপস চট্টোপাধ্যায়কে ওই দায়িত্ব দেয়। সূত্রের খবর, এই দ্রুত পরিবর্তনের প্রক্রিয়াতেই সাংসদের অসন্তোষ আরও বাড়ে। এর মধ্যেই দলের অলিখিত নিষেধ উপেক্ষা করে মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত হন তিনি। পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কাকলি ঘোষ দস্তিদার তাঁকে বলেছেন, এতদিনে স্বাধীনতা পেলাম। সেই বৈঠকের পরেই এদিন সমস্ত দলীয় পদ ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন বারাসতের সাংসদ। বলে রাখা প্রয়োজন, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই দলের সঙ্গে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে। বিধানসভা ভোটের আগে তাঁকে লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক পদে নিযুক্ত করা হলেও, ভোটের ফলাফলের পর সেই দায়িত্ব থেকে তাঁকে সরিয়ে দিয়ে ফের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফিরিয়ে আনা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দলের অন্দরে মনোমালিন্য শুরু হয়।

চিঠিতে কী লিখেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার?

তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে কাকলি লিখেছেন, দুর্নীতি থেকে আরজি কর কাণ্ড তাঁকে গভীর ভাবে প্রভাবিত করেছে। বুধবার তিনি লেখেন, ‘আমার বিবেক আজ গভীর ভাবে আলোড়িত। রেশন দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি-সহ একাধিক আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ ও অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।’ আরজি করের প্রাক্তনী কাকলী এ-ও জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক তরুণীর ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনাকে ‘সম্ভাব্য ধামাচাপার অভিযোগ’ সমাজকে স্তম্ভিত করেছে। তার অভিঘাত তিনি ব্যক্তিগত ভাবে অনুভব করেছেন। পাশাপাশি, চিঠিতে কাকলি লিখেছেন, ‘যে পদে থাকাকালীন মহিলা সাংসদের উপর অন্য একজন অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতা সহানুভূতি পাওয়া যায় না, (তখন) সে পদে থাকার মানে হয় না।’ এখানেই শেষ নয়, চিঠির দ্বিতীয় অংশে কাকলি নিশানা করেছেন তৃণমূলের ভোট পরামর্শকারী সংস্থা আই-প্যাককে। প্রবীণ সাংসদ জানিয়েছেন, আই-প্যাক নিয়ে নানা মহল থেকে নানা অভিযোগ উঠেছে। সেগুলোও তাঁকে বিচলিত করেছে। দলের রাজ্য সভাপতিকে সাংসদ লিখেছেন, ‘যদি কোনও অস্বচ্ছ ও অগণতান্ত্রিক প্রভাব ক্রমশ সংগঠনের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে, তবে তা দলের আদর্শ ও ঐতিহ্যের পক্ষে শুভ হতে পারে না বলে আমি মনে করি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *