শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, আজ, বুধবার বিএসএফের হাতে প্রায় ১২০ একর জমি তুলে দেওয়া হবে। সীমান্ত সুরক্ষা ও দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে এই জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিলিগুড়ি করিডোর ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশলগত এলাকা। এই করিডোর ঘিরে রয়েছে নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ এবং চিন। ফলে ভূরাজনৈতিক, সামরিক ও দেশের নিরাপত্তার দিক থেকে অঞ্চলটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলে মনে করা হয়। সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া তৈরির কাজ দ্রুত শেষ করতে এই জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রে দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি সংগঠনগুলির নজরে রয়েছে ‘চিকেনস নেক’। বিশেষ করে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এই করিডোর নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। অভিযোগ, অস্ত্র, মাদক এবং জাল নোট পাচারের ক্ষেত্রেও এই এলাকা ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি বেআইনি অনুপ্রবেশের ঘটনাও প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। লাগাতার অনুপ্রবেশের কারণে এলাকার জনবিন্যাস বদলের অভিযোগও একাধিকবার উঠেছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আগের সরকারের আমল থেকেই জমি হস্তান্তরের বিষয়টি আটকে ছিল। তবে সরকার বদলের পর সেই প্রক্রিয়ায় গতি আসে। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে জমি হস্তান্তর করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই শুভেন্দু অধিকারী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর এবার চিকেনস নেক বা শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সঙ্গে ৪০৯৬.৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত আছে ভারতের। এর মধ্যে থেকে ৩ হাজার ২৩৯.৯২ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার আছে। অর্থাৎ, মোট সীমান্তের ৭৯.০৮ শতাংশ এলাকায় আছে কাঁটাতার বেড়া।

ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক জায়গায় বিএসএফকে কাঁটাতারের বেড়া দিতে বাধা দিয়েছে বিজিবি। এই নিয়ে বিএসএফ এবং বিজিবির মধ্যে একাধিক জায়গায় সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল ২০২৪ সালের ৫ অগস্টের পর থেকে। এর জেরে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও মধ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। এই বিষয়টি নিয়ে এর আগেও কথা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়েছে জায়গায় জায়গায়। এছাড়া ‘সীমান্ত হত্যা’ নিয়ে বাংলাদেশের অনেক অভিযোগ। যদিও পাচারকারীকে রুখতে ব্যর্থ বিজিবি। এই আবহে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বা পাচারকারীর ওপর বিএসএফ গুলি চালালে তাতেও আপত্তি বাংলাদেশের। এদিকে অনেক জায়গাতেই অভিযোগ উঠেছে, টাকা নিয়ে পাচারকারীদের ভারতে অনুপ্রবেশে সাহায্য করে বিজিবি। এই সবের মাঝেই সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের প্রাক্তন সেনা কর্তা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতারা ভারত ভাগের ডাক দিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনাও চুপিসারে দৃঢ় পদক্ষেপ করে চলেছে।