রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে নতুন করে জোর জল্পনা ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। সমাজমাধ্যমে মঙ্গলবার রাত থেকেই তাঁর গ্রেপ্তারির খবর ঘিরে শুরু হয় তুমুল চর্চা। দেবরাজ চক্রবর্তী কীর্তনশিল্পী তথা তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী হিসেবেও পরিচিত। বিজেপির একাধিক নেতার পোস্ট ঘিরেই এই জল্পনার সূত্রপাত বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, দেবরাজ তৃণমূলের সেনাপতি তথা সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ নেতা হিসাবে পরিচিত। তিনি বর্তমানে বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর। গত পুরভোটের পরে বিধাননগরের সম্ভাব্য মেয়র বা চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর নাম উঠে এসেছিল।
খবর ছড়ায়, উত্তর ২৪ পরগনার এই প্রভাবশালী নেতাকে কোনও তদন্তকারী সংস্থা আটক করেছে। যদিও রাত পর্যন্ত রাজ্য পুলিশ বা কলকাতা পুলিশের তরফে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সূত্র মারফত দাবি করা হয়, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখা হয়েছে। বিজেপি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, মঙ্গলবার রাতেই দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তোলাবাজি এবং দুর্নীতির মতো একাধিক অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে বলেও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি সমাজমাধ্যমে ‘পাপ বিদায়’ মন্তব্য করে পোস্ট করেন। এরপরই সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রশ্নচিহ্ন-সহ দেবরাজের নাম উল্লেখ করে পোস্ট করেন। আরও কয়েকজন বিজেপি নেতাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে একই দাবি করেছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, অতীতেও বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেবরাজ চক্রবর্তীর নাম রাজনৈতিক মহলে উঠে এসেছে। বিধানসভা ভোটের প্রচারেও তাঁকে নিয়ে সরব হয়েছিল বিজেপি। ভোটে তাঁর স্ত্রীর হারের পরে তাঁকে এবং অদিতিকে কাঁদতে কাঁদতে গণনা কেন্দ্র ত্যাগ করতে দেখা গিয়েছিল। তবে এরপর থেকেই আর দেবরাজকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এদিকে ভোটে জিতেই তরুণজ্যোতি দাবি করেছিলেন, দেবরাজকে তিনি গ্রেফতার করাবেন। এহেন দেবরাজের সম্ভাব্য গ্রেপ্তারির খবর সামনে আসতেই নতুন করে চর্চা শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে।
