বাংলাদেশের মাটিতে ঝড় তোলা IFS অফিসার পূজা ঝা আসলে কে?

Spread the love

IFS Officer Pooja Kumari Jha: বাংলাদেশের অনুষ্ঠানে ভারতের ভুল মানচিত্র দেখানোয় গর্জে ওঠেন। সাবলীলভাবে কিন্তু একেবারে দৃঢ় কণ্ঠে তীব্র প্রতিবাদ জানান। সেই ভারতীয় কূটনীতিবিদ পূজা কুমারী ঝা ভেসে গিয়েছেন প্রশংসায়। দুঁদে ভারতীয় কূটনীতিবিদের ‘ব্যাকগ্রাউন্ড’ একেবারে চমকপ্রদ। সোনার চামচ মুখে নিয়ে বড় হননি। বরং জীবনের প্রতিটা ধাপে লড়াই-লড়াই করতে বড় হয়েছেন। সেই রেশ ধরে ২০২১ সালে প্রথম অ্যাটেম্পটেই ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা ক্র্যাক করেন। শুধু ক্র্যাক করেন বললে অবশ্য বেশ ছোটো করাই হয়। প্রথম অ্যাটেম্পটেই সর্বভারতীয় স্তরে ৮২ তম স্থান অধিকার করেন। তারপর সুযোগ ছিল আইএএস (ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস) হওয়ার, তবে পূজা বেছে নেন আইএফএস (ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস)। আর আইএফএস অফিসার হিসেবে আপাতত বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি (রাজনৈতিক এবং তথ্য বিষয়ক) পদে আছেন পূজা।

বাংলাদেশের অনুষ্ঠানে ভুল ভারতীয় মানচিত্র, তীব্র প্রতিবাদ পূজার

চলতি সপ্তাহের গোড়ার দিকে বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি সার্ক সংক্রান্ত একটি সেমিনারে যোগ দেন। সেখানে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রাক্তন হাইকমিশনার আহমেদ তারিক করিম যখন ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন তাঁকে থামান পূজা। তিনি জানান, যে ভারতীয় মানচিত্র দেখানো হয়েছে, সেটা ভুল। জম্মু ও কাশ্মীর যে ভারতের অখণ্ড এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ, তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন। তাতে বেকায়দায় পড়ে যান বাংলাদেশের প্রাক্তন কূটনীতিবিদ।

আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে বড় হন পূজা

আর যেভাবে বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি গর্জে ওঠেন, সেজন্য তাঁকে কুর্নিশ জানিয়েছেন সকলেই। যিনি লড়াই করে এই জায়গায় পৌঁছেছেন। দ্য বেটার ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, পূজার বাবা গুরুগ্রামে অফিস সহায়ক হিসেবে কাজ করতেন। ছয় ভাইবোনের সংসারে আর্থিক টানাপোড়েন ভালোমতোই ছিল। সেইসঙ্গে যে সমাজে তিনি বড় হয়েছিলেন, সেখানে ছেলেদের প্রতি একটা বাড়তি ভালোবাসা ছিল। সেখান থেকে দাঁড়িয়ে সমাজে দাগ কেটে যাওয়ার একটা বাড়তি আকাঙ্খা ছিল পূজার মনে।

IFS অফিসার পূজা কুমারী ঝা’র জীবন

১) সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করেন। পড়েছেন দিল্লি পুরনিগমের স্কুলেও।

২) প্রাথমিকভাবে ডাক্তার হতে চেয়েছিলেন। অনুপ্রেরণা ছিলেন দেবী শেঠি। তবে মাত্র কয়েক নম্বরের জন্য সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকায় (নিট) ধাক্কা খেয়েছিলেন। দিল্লির মৌলানা আজাদ মেডিক্যা কলেজ থেকে ব্যাচেলর অফ ডেন্টাল সার্জারি করেন। প্রতি বছরই কলেজে প্রথম হন।

৩) ২০২২ সালের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূজা জানিয়েছিলেন যে জনসেবার যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে চেয়েছিলেন, দন্তচিকিৎসক তা পূরণ হত না। তাই ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন।

৪) পূজা জানিয়েছিলেন, বই পড়ে-পড়ে ইংরেজিতে দক্ষতা বেড়েছে তাঁর। ইংরেজি শেখার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইব্রেরিতে থাকতেন।

৫) ২০২১ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন পূজা। ২০২২ ব্যাচের আইএফএস অফিসার তিনি। যিনি একটা সময় তাঁর এলাকায় প্রত্যেক মেয়ের রোল মডেল হয়ে উঠতে চেয়েছিলেন, তিনি তাঁর স্বপ্নপূরণ করেছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *