এই মুহূর্তে উত্তপ্ত বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন বহু মানুষ। দুটি বড় বড় সংবাদমাধ্যমের অফিস সহ সংস্কৃতির অন্যতম বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ছায়ানট এখন রীতিমতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে গিয়েছে। এই ছায়ানট- এ অনুষ্ঠান করার কথা ছিল বিখ্যাত সরোদ বাদক সিরাজ আলি খানের।
গত ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল কিন্তু ১৮ ডিসেম্বর ছাত্রনেতা ওসমান হাদির মৃত্যুতে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া সবকিছু, তার মধ্যেই প্রাণ বাঁচাতে তড়িঘড়ি বাংলাদেশ ছেড়ে কলকাতায় চলে আসতে বাধ্য হন সিরাজ আলি খান।
অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য গত ১৬ ডিসেম্বর তিনি উড়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশে। ১৭ ডিসেম্বর বনানীতে একটি ছোট্ট অনুষ্ঠান ছিল, সেখানে রীতিমতো শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছিলেন তিনি। এরপর ১৯ ডিসেম্বর ছায়ানট- এ শাস্ত্রীয় সংগীতের অনুষ্ঠান ছিল তাঁর, কিন্তু রাতারাতি সবকিছু পরিবর্তন হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে দেশ ছাড়েন তিনি।
তবে বাংলাদেশের যে ভয়াবহ চিত্র তা নিজের চোখে দেখেছেন তিনি। একটি দেশের মানুষ কতটা নৃশংস হলে তবেই একটি সংগীত প্রতিষ্ঠানকে জ্বালিয়ে দিতে পারে, তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলছেন তিনি। পুড়ে যাওয়া ছায়ানট, এদিক ওদিক ছড়িয়ে থাকা ভাঙাচোরা বাদ্যযন্ত্র দেখে ভেঙে পরেন তিনি।
এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো, সিরাজ বিখ্যাত সরোদবাদক আলি আকবর খানের ছেলে। সিরাজের প্র পিতামহ আলাউদ্দিন খান বাংলাদেশের ব্রাহ্মণ বেড়িয়ার বাসিন্দা। আজও বাংলাদেশে বহু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে তাঁদের। কাজ ছাড়াও নিয়মিত যাওয়া হয় সে দেশে। দুঃখের বিষয়, আলাউদ্দিন খানের নামে ব্রাহ্মণবেড়িয়ায় একটি কলেজ ছিল যা কিছুদিন আগেই মৌলবাদীরা নষ্ট করে দিয়েছে।

জন্ম সূত্রে সিরাজের মা বাংলাদেশী বলে বাংলাদেশের ভাষা খুব ভালোভাবেই বলতে পারেন তিনি। এই দুর্যোগের সময় সেটাই বাংলাদেশ ছাড়তে সাহায্য করেছে সিরাজকে। তবে প্রাণ হাতে নিয়ে কলকাতায় ফিরে এসেও যেন সেই ঘটনা এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাঁকে।