বাবার নাম ছিল শ্যামলাল রায়। আর ছেলের নাম নিমাই মাল। ভোটার তালিকায় নামের পদবির এই অমিলের জেরেই এসআইআর শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন নিমাই। আর সেই শুনানির ডাক পেতেই নাকি আতঙ্কে মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত নিমাইয়ের বয়স ৪৪ বছর। তিনি মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থানার রায়পুরের বাসিন্দা ছিলেন। জানা গিয়েছে, নিমাইয়ের বাবার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল। এদিকে নিমাইয়ের নাম ওঠে চলতি এসআইআরের খসড়া তালিকায়। তবে বাবার সঙ্গে নামের পদবিতে অমিল থাকায় তাঁকে নাকি তলব করা হয়েছিল শুনানির জন্য।
নিমাইয়ের পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর শুনানির নোটিশ হাতে পাওয়ার পর থেকেই গভীর চিন্তায় মগ্ন ছিলেন তিনি। এই আবহে এসআইআর আতঙ্কেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি কর হচ্ছে। এদিকে চিকিৎসকরা জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় নিমাইয়ের। উল্লেখ্য, এসআইআর শুরুর পর থেকে বাংলায় একাধিক মৃত্যু নিয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু হয়েছে অনেকের। এদিকে বিজেপি এই দাবি মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, যেকোনও মৃত্যুকেই ‘এসআইআর আতঙ্ক’ বলে দাবি করা হচ্ছে। সঙ্গে তাদের আরও দাবি, যদি সত্যি এসআইআর আতঙ্কে কারও মৃত্যু হয়ে থাকে, তাহলে তার দায় তৃণমূল কংগ্রেসের। কারণ, তারা নাকি এসআইআরের নামে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে।
এদিকে নিমাইয়ের ক্ষেত্রে নাকি পদবি ভুল থাকায় সঠিক নথি দিয়ে সংশোধন করতে হত। এই আবহে কোন নথি গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে নাকি উদ্বিগ্ন ছিলেন তিনি। এই পরিস্থিতিতেই ২৬ ডিসেম্বর দুপুর নাগাদ নিজের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এই আবহে নিমাইয়ের স্ত্রী পরিবালা মাল জানান, পদবির গণ্ডগোলের জন্য শুনানির নোটিস পাওয়ার পর থেকে খুব আতঙ্কে ছিলেন তিনি। এদিকে রায়পুর গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান নাজমুল হক দাবি করেন, নিমাইয়ের কাছে নাকি সঠিক নথিপত্র ছিল না, তাই তিনি আতঙ্কে প্রাণ হারিয়েছেন।
