বিধাননগরের পুরনিগমের কৃষ্ণা চক্রবর্তী পদত্যাগ করলেন। পুর কমিশনারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। চিঠিতে পদত্যাগের কারণ ‘ব্যক্তিগত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই পদত্যাগের জেরে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। এদিকে এই চিঠির একটি কপি পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে পাঠিয়েছেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী।
এর আগে বিধাননগর পুরনিগমের একাধিক কাউন্সিলর বিভিন্ন কারণে গ্রেফতার হয়েছেন। এর আগে তোলাবাজির অভিযোগে বিধাননগরের ৬ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সম্রাট বড়ুয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে。 তিনি তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। এদিকে তোলাবাজির অভিযোগে বিধাননগর পুরসভার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং বরো চেয়ারম্যান রঞ্জন পোদ্দারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে করুণাময়ী বাস স্ট্যান্ডে বাস চালকদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগ ছিল।
এদিকে জোর করে ভয় দেখিয়ে জমি দখল ও জমির মালিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিধাননগর পুরনিগমের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর আজিজুল হোসেন মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। ভোটারদের ভয় দেখানো এবং উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে বিধাননগরের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর নির্মল দত্তকে গ্রেফতার করা হয়।
অপরদিকে কলকাতা পুরনিগমে একাধিক বোরো চেয়ারম্যান ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন। কলকাতা পুরসভার ৯ নম্বর বরো-র চেয়ারপার্সন পদ থেকে প্রথমে পদত্যাগ করেন দেবলীনা বিশ্বাস। তিনি ফিরহাদ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। উল্লেখ্য, অভিষেকের যে সকল সম্পত্তিতে পুরসভার নোটিস গিয়েছিল, সেগুলির অধিকাংশই ৯ নং বোরোতে অবস্থিত। এদিকে দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ ১২ নম্বর বরো-র চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন। এদিকে ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী মিউনিসিপ্যাল অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন। এছাড়া তৃণমূলের দাপুটে নেতা তথা ১১৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারক সিং পদত্যাগ করেছেন কলকাতা পুরসভার নিকাশি বিভাগের মেয়র পারিষদ পদ থেকে। মেয়র ফিরহাদের পদত্যাগ নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। গতকাল কুণাল ঘোষ প্রথমে দাবি করেন, ফিরহাদ পদত্যাগ করেছেন। তবে পরে ফিরহাদ ঘনিষ্ঠ মহলে জানান, তিনি এখনও পদত্যাগ করেননি।
