Stock Market: সপ্তাহের শেষ ট্রেডিং সেশনে দারুণ প্রত্যাবর্তন করল দেশের শেয়ার বাজার। শুক্রবার, স্টক মার্কেটের প্রধান শেয়ার সূচকগুলি উল্লেখযোগ্যভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে দিনের লেনদেন শেষ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির আশায় বিনিয়োগকারীদের মনোভাব বেশ ইতিবাচক ছিল। তাই বিভিন্ন খাতে ব্যাপক শেয়ার কেনার আগ্রহ দেখা গেছে। তার জেরেই এই উত্থানের সাক্ষী থাকল দালাল স্ট্রিট।
সপ্তাহান্তে সেনসেক্স এক লাফে ১৬৯৫.৪০ পয়েন্ট উঠে ফের ৭৫ হাজারের গণ্ডি পার করল। দিনের শেষে সেনসেক্স ১,৬৯৫ পয়েন্ট বা প্রায় ২.৩ শতাংশ বেড়ে ৭৫,৫২৮ পয়েন্টে পৌঁছয়। একই ভাবে নিফটি৫০ ৪৬১ পয়েন্ট বা ১.৯৯ শতাংশ বেড়ে ২৩,৬২৩ পয়েন্টে ক্লোজ করে। এর জেরে একদিনেই বিএসই-তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজার মূলধন প্রায় ৯.৭১ লক্ষ কোটি টাকা বেড়েছে। শুধু লার্জ ক্যাপ নয়, মিড ক্যাপ ও স্মল ক্যাপ সেগমেন্টেও শক্তিশালী কেনাকাটা দেখা গিয়েছে। মিড ক্যাপ এবং স্মল ক্যাপ সূচক বেঞ্চমার্ক সূচকগুলির সঙ্গে তাল মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশের শেয়ার বাজারের এই উত্থানের পিছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির আশা বাড়ায় পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা কিছুটা কমেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহর জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের খসড়ায় ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দেশটির আশপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর পরপরই সেনসেক্স প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে প্রায় ৮০০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারেও অপরিশোধিত তেলের দাম ৯০ ডলারের নীচে নেমে এসেছে। ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এটি ইতিবাচক বার্তা। একই সঙ্গে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ বিশ্বের বিভিন্ন বাজারেও শক্তিশালী র্যালি দেখা গিয়েছে। ডলারের তুলনায় টাকার দামও কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে, যা লগ্নিকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। এই দুই ঘটনাই শুক্রবার শক্তি জোগাল শেয়ার বাজারে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলে আগামী সপ্তাহেও বাজারে ইতিবাচক গতি বজায় থাকতে পারে।
এদিন নিফটি-র অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলির মধ্যে শ্রীরাম ফিন্যান্স, এলঅ্যান্ডটি, ইন্টারগ্লোব অ্যাভিয়েশন, বাজাজ ফিন্যান্স এবং এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনকারী হিসেবে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, নেসলে ইন্ডিয়া, ওএনজিসি, টেক মাহিন্দ্রা, পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশন এবং এসবিআই লাইফ ইন্স্যুরেন্স ছিল পিছিয়ে থাকা কোম্পানিগুলির তালিকায়। বাণিজ্যিক যানবাহন নির্মাতা সংস্থা, অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট খাতের কোম্পানিগুলির শেয়ারে শুক্রবার, ৫ শতাংশ পর্যন্ত উত্থান দেখা গেছে। খাতভিত্তিক হিসেবে, আইটি ছাড়া অন্য সব সূচকই ইতিবাচক অবস্থানে থেকে দিনের লেনদেন শেষ করেছে। কনজিউমার ডিউরেবলস, রিয়্যালটি, টেলিকম, ব্যাঙ্কিং, অটো, মিডিয়া, অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এবং মেটাল খাতের শেয়ারগুলির দর ১-২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। যা পুরো বাজারজুড়ে ব্যাপক প্রতিফলন তৈরি করেছে। প্রধান সূচকগুলির তুলনায় সামগ্রিক বাজার (ব্রডার মার্কেট) উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।
