বিমানবন্দর-হাইকোর্ট সহ একাধিক সংবেদনশীল স্থানে হুমকির ইমেল

Spread the love

Delhi bomb threat: ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের (Independence Day) প্রাক্কালে রাজধানী দিল্লিতে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি। ঐতিহাসিক লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi) জাতীয় পতাকা উত্তোলনের প্রাক্কালে দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court)-সহ একাধিক সংবেদনশীল স্থানে বোমা বিস্ফোরণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার একটি হুমকি ইমেল আসার পরই গোটা দিল্লিজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ স্তরে কড়া করা হয়েছে।

শুক্রবার পাওয়া ওই হুমকির ইমেলটিতে সাবজেক্ট লাইনে স্পষ্ট লেখা ছিল-‘৩০ এমবি ব্লাস্ট এট দ্য দিল্লি হাইকোর্ট।’ নির্দিষ্ট করে দুপুর ২টা ১১ মিনিটে বিস্ফোরণ ঘটানোর হুমকি দেওয়া হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আদালত চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। তড়িঘড়ি রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং হাইকোর্টের জয়েন্ট সেক্রেটারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে জরুরি বৈঠক সারেন। আদালত চত্বরে নামানো হয় বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড ও ডগ স্কোয়াড। তবে এই হুমকি ভুয়ো বলেই অনুমান করা হচ্ছে এবং সমস্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বার অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সচিব কুনাল মালহোত্রা।

শুধু হাইকোর্টই নয়, দিল্লি ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গিয়েছে, একই দিনে জামনগর হাউস, ঝান্ডেওয়ালা ফ্ল্যাটড ফ্যাক্টরি কমপ্লেক্স, সাকেত ডিএম অফিস, আইজিআই বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৩ এবং দিল্লি কন্টনমেন্টের এসডিএম অফিস-সহ মোট ছটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বোমা রাখার হুমকি কল আসে। প্রতিটি স্থানেই তৎক্ষণাৎ দমকল ইঞ্জিন ও বম্ব স্কোয়াড পাঠানো হয়। সর্বত্রই নিরাপত্তা জোরদার করে বোমার খোঁজে শুরু হচ্ছে তল্লাশি। তবে প্রাথমিক তল্লাশিতে কোনও জায়গাতেই সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি বলে খবর। সূত্রের খবর, দিল্লি হাইকোর্ট ছাড়াও জেলা আদালতগুলিতেও বিস্ফোরণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ইমেলটিতে লালকেল্লা, দিল্লি মেট্রো এবং আম্বালা থেকে আসা ট্রেনগুলির প্রসঙ্গ তোলার পাশাপাশি খলিস্তান ও ১৯৮৪ সালের শিখ নিধনের ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত ৩ অগাস্ট দিল্লির মেয়রের কার্যালয় এবং একাধিক স্কুলেও এভাবেই ভুয়ো বোমা হুমকি ইমেল পাঠানো হয়েছিল।

কড়া নিরাপত্তায় মুড়ল রাজধানী

স্বাধীনতা দিবসের আগে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে রাজধানী দিল্লিকে। ১৫ অগাস্ট লালকেল্লার প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেশের উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিক ভাষণের প্রাক্কালে নজিরবিহীন নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বছরের স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত দেখা যাবে, যেখানে লালকেল্লার প্রাচীর থেকে প্রথমবারের মতো গাওয়া হবে ‘বন্দে মাতরম’। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও পতাকা উত্তোলনের এই নতুন পরম্পরাকে সুরক্ষিত রাখতে এবং সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতা রুখতে পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনী যৌথভাবে রাজধানীর প্রতিটি প্রবেশ ও প্রস্থান দ্বারে ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে। লালকেল্লা, ইন্ডিয়া গেট, কনট প্লেস, আইজিআই বিমানবন্দর এবং নয়াদিল্লি রেলওয়ে স্টেশনের মতো জনবহুল এলাকাগুলিতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। শুধু দিল্লিই নয়, সংলগ্ন গুরুগ্রামেও নিরাপত্তা বলয় জোরদার করা হয়েছে। গুরুগ্রাম পুলিশ প্রায় সাড়ে ৪ হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করেছে এবং গোটা জেলায় ১১টি বড় চেকপয়েন্ট তৈরি করেছে। ভিআইপি রুট, প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ, পার্কিং এরিয়া এবং অন্যান্য সংবেদনশীল জায়গাগুলিতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *