‘বিয়ের রাতেই ওরা আমায় মা বলে ডাকে’

Spread the love

আশির দশকের শুরুতে প্লে-ব্যাকের দুনিয়ায় পা রাখেন কবিতা কৃষ্ণমূর্তি। ভারতীয় সঙ্গীত জগতের অন্যতম খ্যাতনামী গায়িকা তিনি। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সেভাবে খুব কমজনই জানেন। একটা সময় বলিউডি গানের দুনিয়ায় রাজত্ব করেছেন কবিতা। ঠিক করেছিলেন জীবনে বিয়ে করবেন না। কিন্তু চল্লিশের কোঠায় পা দিয়ে সেই পণ ভাঙেন।

বিপত্নীক, তিন সন্তানের বাবা এল সুব্রহ্মণ্যমের সঙ্গে সাত পাক ঘুরেছিলেন কবিতা কৃষ্ণমূর্তি। তাঁদের প্রেমের কিসসা। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান আইডলের মঞ্চে ফাঁস করেছেন গায়িকা। বিচারক শ্রেয়া ঘোষাল জোর দিয়ে কবিতাজির প্রেম এবং বিয়ের গল্প শুনতে চান। কবিতা কৃষ্ণমূর্তি জানান, ‘আমি বাড়ির ছোটমেয়ে। খুব আদরের। ভেবেছিলাম এই সুযোগ-সুবিধা ছেড়ে কোনওদিন বিয়ে করব না। আমার বিয়েটা অনেক বেশি বয়সে হয়েছিল’।

কবিতা জানান, একদিন আমার ফোন আসে যে এল সুব্রহ্মণ্যম একটি চলচ্চিত্র করছেন এবং তিনি আমাকে হরিহরণের সাথে একটি গান গাইতে চেয়েছিলেন।’ সেই রেকর্ডিং-এর আসরেই সদ্যপত্নীহারা সঙ্গীতশিল্পীকে দেখে মায়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন কবিতা কৃষ্ণমূর্তি। পরের এক রেকর্ডিং শেষে সুব্রহ্মণ্যমের বাড়ি যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। সেখানে তাঁর চার সন্তানকে দেখে কবিতা কৃষ্ণমূর্তির মনে হয়েছিল, এমনই একটা পরিবার তিনি চান। যদিও চেয়েছিলেন বিয়ের প্রস্তাবটা উলটো দিক থেকে আসুক। দিন কয়েক পরে কবিতাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এল সুব্রহ্মণ্যম।

গায়িকা জানান, ‘আমি শুধু স্বামী পাইনি। একটা পরিবার পেয়েছিলাম। সবচেয়ে বড় কথা হল, বিয়ের রাতেই ওরা তিনজনে আমাকে মা বলে ডেকেছিল। এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

অতীতে গায়িকা জানিয়েছিলেন,’আমি তাঁর স্ত্রী (সুব্রহ্মণ্যম) বিজি শঙ্করকেও চিনি। তিনি লক্ষ্মী শঙ্করের মেয়ে ছিলেন। আমরা একই কলেজে গিয়েছিলাম। আমি জানতাম ভিজি ক্যান্সারে মারা গেছেন। স্টুডিওতে সুব্রহ্মণ্যমের সঙ্গে আমার দেখা হয়। আমি আমার সমবেদনা জানিয়েছি। তিনি বলেছিলেন যে এটি তার জীবনের একটি দুঃখজনক দিক। আমি দেখেছি যে তিনি খুব শান্ত মানুষ। এরপরই শুরু হয় গান। তিনি আমাকে ১৯ বার একটি লাইন গাইতে বাধ্য করেছিলেন। ততক্ষণে, আমি এক বা দুটি টেকে গানটি ঠিক বলতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। তারপরে আমি তার সাথে আরও একটি রেকর্ডিংয়ের জন্য বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলাম, কারণ তার পুরো সিস্টেম সেখানে ছিল। সেখানে তার সন্তানদের সঙ্গেও দেখা হয়। ওই সময় আমরা একসঙ্গে তিন-চারটি প্রজেক্ট করেছি। আমি ভেবেছিলাম তিনি আমার জন্য একজন ভালো মানুষ। আমরা যখন বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলাম, তখন মা আর মামুনি ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। তারা ভয় পেয়েছিল যে আমি একজন সফল প্লেব্যাক গায়ক, বিয়ে করব এবং তাও এমন একজন ব্যক্তির সাথে যার ইতিমধ্যে তিনটি সন্তান রয়েছে, তাহলে আমার কী হবে? তারা ভয় পেয়েছিল যে আমাকে মুম্বই ছেড়ে বেঙ্গালুরু যেতে হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *