বাংলাদেশের ময়মনসিংহে সদ্য এক যুবককে ব্যাপক মারধরের পর তাঁর মৃতদেহ মাঝ রাস্তায় জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই ইউনুস প্রশাসন জানিয়েছে, তারা ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনা নিয়ে তীব্র নিন্দায় ফেটে পড়েছেন এদেশের একাধিক রাজনীতিবিদ। বঙ্গ বিজেপির এক্স হ্যান্ডেলে ঘটনার নিন্দা করা হয়। কংগ্রেসের প্রিয়াঙ্কা গান্ধীরা ঘটনার তীব্র নিন্দায় সরব হয়েছেন। সরব হয়েছেন শশী থারুর থেকে পবন কল্যাণরাও। এরই মাঝে সেই যুবকের পরিবার তুলে ধরল সেই রাতের বীভৎস ঘটনার কথা।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুবকের বাবা জানিয়েছেন, তাঁরা ইউনুস সরকারের তরফে ‘কোনও আশ্বাস’ পাননি।
প্রসঙ্গত, যে রাতে হাদির মৃত্যুর খবর বাংলাদেশে আসে, সেই রাতেই ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ ওঠে ময়মনসিংহের ওই যুবকের বিরুদ্ধে। এরপরই তাঁকে নারকীয়ভাবে অত্যাচার করে বাংলাদেশের রাস্তায় খুন করা হয়। ঘটনার ভিডিয়ো করতেও অনেকে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আর সেই ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় আসতেই ক্ষোভে সরব হন অনেকেই। কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এক্সে লেখেন,বাংলাদেশে হিন্দু যুবকের ‘নৃশংস গণপিটুনির খবর গভীরভাবে উদ্বেগজনক। যেকোনো সভ্য সমাজে ধর্ম, বর্ণ, পরিচয় ইত্যাদির ভিত্তিতে বৈষম্য, সহিংসতা এবং হত্যা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।’ দক্ষিণী নায়ক তথা রাজনীতিবিদ পবন কল্যাণ লেখেন,’ইতিহাস আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে। কিন্তু আজ, যে মাটি একসময় ভারতীয় রক্ত দিয়ে স্বাধীন হয়েছিল, সেই মাটি নিরীহ সংখ্যালঘুদের রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে।’ থেমে থাকেননি শশী থারুর। তিনি এক্স পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, ‘এই জাতীয় ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করতে তারা (ইউনুস সরকার) কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?’ বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে নিন্দায় সরব হয়েছেন সুকান্ত মজুমদার থেকে শমীক ভট্টাচার্যরা।

এদিকে ময়মনসিংহে নিহত যুবকের পরিবার জানাচ্ছে, তাঁরা ফেসবুক থেকে নানান ঘটনার খবর পান সেই রাতে। এরইসঙ্গে যুবকের বাবা ওই সাক্ষাৎকারে বলেন,’আমরা এটা জানতে পারি যখন কেউ আমাকে বলে যে তাঁকে (যুবককে) খুব মারধর করা হয়েছে। আধ ঘন্টা পরে, আমার কাকা এসে বললেন যে তারা আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে গিয়েছে এবং তাঁকে একটি গাছের সাথে বেঁধে রেখেছে।’ ঘটনা এখানেই শেষ নয়। বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ যে বর্বরোচিত হত্যার সাক্ষী থেকেছে, তা নিয়ে বলতে গিয়ে যুবকের বাবা বলেন, এরপর কেরোসিন ঢেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়। সেই ভয়াবহ ঘটনার কথা তুলে ধরেন যুবকের বাবা। তবে প্রশ্ন হল কে বা কারা এর নেপথ্য? নেপথ্যে কি জামাতের শাখা ছাত্র শিবির? যুবকের বাবা বলছেন, তাঁরা নিশ্চিত করে জানেন না। গোটা পরিবার তাকিয়ে রয়েছে যুবকের মৃত্যুর বিচারের দিকে।