ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার পরপর দুটি ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনও ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন রাজধানী কারাকাসের ২৫ বছর বয়সি বাসিন্দা লুইস আলেহান্দ্রো রুইজ গার্সিয়া। ভূমিকম্পের মুহূর্তের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সময়গুলোর একটি পার করেছি।’
আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রুইজ গার্সিয়া জানান, প্রথম কম্পন অনুভূত হওয়ার মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগে তিনি গুগলের ভূমিকম্প সতর্কবার্তা পান। এরপরই শুরু হয় প্রবল কাঁপুনি।
‘চারপাশে জিনিসপত্র পড়ে যেতে শুরু করে। আমি আমার ঘরের একটি দেয়ালে ফাটল ধরতে দেখেছি,’ বলেন তিনি। ‘আমার মনে হয়, এটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মুহূর্তগুলোর একটি। এতটা ভয় আমি আগে কখনও পাইনি।’
ভূমিকম্পের সময়ের শব্দকে তিনি বিমানের টারবাইনের গর্জনের সঙ্গে তুলনা করেন। কম্পন শুরু হতেই তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ভবন থেকে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। কিন্তু বাইরে বের হওয়ার পর তাদের সামনে আরও ভয়াবহ দৃশ্য উন্মোচিত হয়।
রুইজ গার্সিয়া বলেন, ‘আমি যখন আমার দাদিকে আনতে যাচ্ছিলাম, তখন রাস্তার ওপারের ভবনটি সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। দৃশ্যটি অনেকটা যুদ্ধবিধ্বস্ত কোনো দেশের ছবির মতো লাগছিল। দেয়াল ভেঙে পড়েছিল, লোহার গ্রিলগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। আর ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ধাক্কাধাক্কির শব্দ ও সাহায্যের জন্য মানুষের চিৎকার-আর্তনাদ শোনা যাচ্ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘ধীরে ধীরে ভিডিও ও বিভিন্ন তথ্য সামনে আসছে, আর প্রতিটি নতুন ছবি আগেরটির চেয়েও ভয়াবহ।’ নিজের আবেগ প্রকাশ করতে গিয়ে এই তরুণ বলেন, ‘সত্যি বলতে, আজকের দিনটি ভেনেজুয়েলার জন্য এক ভয়ঙ্কর ও অন্ধকার দিন। এমন কিছু মুহূর্ত থাকে, যা একজন মানুষের জীবনে চিরস্থায়ী ছাপ রেখে যায়। এটি ঠিক তেমনই একটি মুহূর্ত।’

‘এমন কিছু জীবনে দেখিনি’
ভূমিকম্পের সময় অনেক মানুষ নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করছিলেন। কারণ এদিন দেশটিতে সরকারি ছুটি ছিল। ১৮২১ সালে স্পেনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিজয়ের স্মরণে জাতীয় ছুটি পালন করা হচ্ছিল।
পশ্চিম কারাকাসের ৪১ বছর বয়সি বিজ্ঞাপনকর্মী অ্যাস্ট্রিড রামিরেজ বলেন, ‘কম্পন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চারদিকে মানুষের চিৎকার শুনতে পাই। সবাই আতঙ্কে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছিল।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনগুলো দুলতে শুরু করলে তারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন।