সাতসকালে রাজধানীতে ফুট ওভারব্রিজ ভেঙে বিপত্তি। মঙ্গলবার উত্তর দিল্লির রূপনগর এলাকায় একটি লোহার ফুট ওভারব্রিজের একাংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। সূত্রের খবর, যখন ফুট ওভারব্রিজটি ভেঙে পড়ে তখন সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন ওই মহিলা। ব্রিজটি ভেঙে পড়তেই তিনি সোজা নিচে গভীর নর্দমায় পড়ে যান। নর্দমার জলে ডুবেই মৃত্যু হয় তাঁর।
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। আচমকা লোহার পুরোনো ফুট ওভারব্রিজটি হুড়িমুড় করে ভেঙে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় ওই ব্রিজের উপর দিয়ে এক মহিলা যাচ্ছিলেন। ব্রিজটি ভেঙে পড়তেই ওই মহিলা সোজা গিয়ে নিচের গভীর নর্দমায় পড়েন। এদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। এছাড়া দিল্লি সিভিল ডিফেন্স এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরাও হাত লাগান উদ্ধার কাজে। বর্তমানে ওই মহিলার খোঁজে উদ্ধারকারী দল জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, নর্দমার জলে ডুবে ওই মহিলার মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় ওই মহিলা ছাড়াও ব্রিজের উপর দিয়ে আর কেউ যাচ্ছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এই মুহূর্তে গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ, যাতে নতুন করে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে। উদ্ধার কাজ শেষ হওয়ার পর ফুট ওভারব্রিজটি ভেঙে পড়ার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ডিএফএস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্রিজটি ভেঙে পড়ার সময় ওই মহিলা উপরেই ছিলেন এবং নিচের নর্দমায় পড়ে যান। তাঁকে উদ্ধার করতে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দিল্লি পুলিশ এবং অন্যান্য জরুরি সংস্থার কর্মী-সহ উদ্ধারকারী দলগুলোকে অবিলম্বে কাজে লাগানো হয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ফুট ওভারব্রিজটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল এবং এ বিষয়ে আগেও অভিযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু সময়মতো মেরামত করা হয়নি। সেতু বিপর্যয় দেশের মাটিতে এই নতুন নয়। আগেও একাধিক বার সেতু ভেঙে পড়ে বিপদের সম্মুখীন হয়েছে সাধারণ মানুষ। শুধু যোগাযোগ নয়, অনেক ক্ষেত্রে ব্রিজ ভেঙে একাধিক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। কখনও আবার অবহেলার অভিযোগও সামনে এসেছে। চিড় চোখে পড়ে মেরামত করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রাই। তবে দিল্লির রূপনগর এলাকায় ঠিক কী কারণে এই বড় ব্রিজ বিপর্যয় ঘটল, কোনও নজর রাখা হয়েছিল কিনা, পরীক্ষা করা হয়েছিল কিনা, তা প্রকাশ্যে আসেনি।
