‘ব্রাত্য’ বসন্তোৎসব! তবুও শান্তিনিকেতনে পর্যটকদের ঢল

Spread the love

বসন্ত মানেই শান্তিনিকেতন। বাঙালির এক চিরাচরিত উৎসবের রীতি। বিভিন্ন আবিরের রং গায়ে মেখে এই উদযাপনের সাক্ষী থাকতে প্রতিবছর বহু মানুষ এই সময়টায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোলপুর শান্তিনিকেতন যান ভ্রমণের জন্য। তবে বিশ্বভারতীতে বসন্ত উৎসব না হলেও পর্যটকদের মধ্যে উৎসাহের কমতি নেই। হোটেল, রিসোর্ট, হোমস্টেগুলিতে উপচে পড়া ভিড়। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্যাকেট সিস্টেমে ঘর ভাড়া। ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায় হোটেলের ঘরভাড়া যাচ্ছে বলে খবর। হোম স্টে-গুলিতেও একইভাবে দর উপরের দিকেই রয়েছে। শান্তিনকেতন, বোলপুরে হোটেল, হোমস্টে প্রায় সবই বুক হয়ে গিয়েছে বলে খবর।

এবারও বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসে দোলের দিন বহিরাগতদের প্রবেশের অনুমতি না থাকলেও বোলপুর পুরসভার একাধিক ওয়ার্ডে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-সহ বসন্তোৎসবে আয়োজন হয়েছে। এছাড়াও পূর্বাঞ্চল সংস্কৃতি কেন্দ্রের সৃজনী শিল্পগ্রাম, কংকালীতলা, কোপাই নদীর পাড়-সহ বিভিন্ন হোটেল এবং হোমস্টেগুলিতে নিজেদের মতো করেই বসন্তোৎসবে আয়োজনের কোনও টুটি নেই। বোলপুর শান্তিনিকেতনের হোটেল লজগুলির হারেই তাদের নিজস্ব গেস্ট হাউসগুলির ভাড়া সমানভাবেই বাড়িয়েছে। সম্প্রতি নতুন প্যাকেজ ভাড়া তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক প্রশ্ন ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

শান্তিনিকেতনে হোটেল ভাড়া

বিশ্বভারতীর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোমবার দুপুর থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ২ দিনের প্যাকেজ ব্যবস্থায় রতন কুঠি গেস্ট হাউসে ডাবল বেডেড এসি কক্ষের ভাড়া রাখা হয়েছে ৫,০০০ টাকা এবং অ্যানেক্সে ৪,০০০ টাকা। পূর্বপল্লি গেস্ট হাউসে চারটি বেডের এসি কক্ষ ৪,০০০ টাকা ও তিনটি বেডের এসি কক্ষ ৩,০০০ টাকা, ডাবল বেডেড এসি কক্ষ ২,৫০০ টাকা, সিঙ্গেল বেড এসি ১,৬০০ টাকা এবং নন-এসি ডরমিটরি ৮০০ টাকা ধার্য হয়েছে। আন্তর্জাতিক গেস্ট হাউসে ডবল বেডেড এসি কক্ষের ভাড়া ২,৫০০ টাকা এবং ডরমিটরি ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পঞ্চবটি গেস্ট হাউসের ডাবল বেডেড এসি কক্ষের জন্য ৫,০০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। যা প্রত্যেক দিনের জন্য ভাড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত জিএসটি প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া

আর এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকেই ভাড়া বৃদ্ধিকে অতিরিক্ত বলে মন্তব্য করেছেন। সাধারণ দর্শনার্থীদের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন একটা বড় অংশ। বেসরকারি হোটেলগুলিতে আরও বেশি ভাড়া রয়েছে বলে খবর। বোলপুরেও বিভিন্ন হোটেল, রিসর্টে প্যাকেজ সিস্টেমে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার নিচে কোনও রুম প্রায় নেই। শান্তিনিকেতনে হোটেল, হোম স্টে-গুলি বুক হয়ে গিয়েছে বলে খবর। প্রশাসনও নিরাপত্তার জন্য কড়া নজরদারি রেখেছে বলে খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *