ভূমিকম্পের ৪ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে বাবা-ছেলেকে জীবিত উদ্ধার

Spread the love

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রায় চার দিন পর ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক বাবা ও তার ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় রোববার (২৮ জুন) তাদের উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনা উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ফরাসি ও মার্কিন উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তারা এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা আরও জীবিত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

ভেনেজুয়েলার লা গুইরা শহরের ধ্বংসস্তূপে ভরা সড়ক দিয়ে উদ্ধারকর্মীরা কাপড়ের তৈরি অস্থায়ী স্ট্রেচারে করে ওই দুজনকে নিয়ে যাওয়ার সময় আশপাশে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। জরুরি উদ্ধারযানের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় বাবা-ছেলে দুজনকেই বেশ দুর্বল দেখাচ্ছিল এবং তাঁদের মুখে মাস্ক পরা ছিল।

গত বুধবার আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় লা গুইরা অঙ্গরাজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 
 
 
গেল বুধবার মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। এতে এখন পর্যন্ত এ দুর্যোগে দেশটিতে অন্তত ১ হাজার ৪৫০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং আরও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৮০০ ভবন ধসে পড়ে। বহু মানুষের প্রাণহানির সঙ্গে সঙ্গে আহতের সংখ্যাও বাড়ছে সমানতালে।
 
নিহতদের মধ্যে পর্তুগাল, চীনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই বিপর্যয়কে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
 
দুর্যোগের ৯৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও আশার আলো নিভে যায়নি। এরইমধ্যে ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছে ১৮ দিন বয়সী নবজাতক ও তার মা। ৩২ ঘণ্টা আটকে থাকার পর তাদের উদ্ধার করা হয়। তালিকায় আছে ১১ বছর বয়সি দুই শিশুর নামও। মোইসেস নামে এক শিশুকে প্রায় ৩ মিটার গভীর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ছয় ঘণ্টার চেষ্টায় উদ্ধার করে কলম্বিয়ার বিশেষজ্ঞ দল।
 
সরকারি তথ্য মতে, এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ আছেন। জীবিত উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও আশা ছাড়ছেন না উদ্ধারকর্মীরা। দিন-রাত এক করে চলছে অনুসন্ধান। ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে স্বজনদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাটি ও কংক্রিট সরাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
 
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঞ্চলকে সম্পূর্ণ লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান নির্বিঘ্ন রাখতে সেখানে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি সেবা ও উদ্ধারকারী যানবাহনের চলাচল নিশ্চিত করতে খোলা রাখা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোও। তবে এই অঞ্চলে বারবার আফটারশক উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলছে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *