ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প: এখনো জীবিত উদ্ধার হচ্ছেন অনেকে! নিখোঁজ ১০ হাজারের বেশি

Spread the love

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের খোঁজে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারীরা। চারদিন পরও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের আশা ছাড়ছেন না তারা। অনেকে উদ্ধার হলেও, এখনও নিখোঁজ আছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ।

গেল বুধবার মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। এতে প্রায় ৮০০ ভবন ধসে পড়ে। বহু মানুষের প্রাণহানির সঙ্গে সঙ্গে আহতের সংখ্যাও বাড়ছে সমানতালে। নিহতদের মধ্যে পর্তুগাল, চীনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন।

 

দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই বিপর্যয়কে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে, দুর্যোগের ৯৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও আশার আলো নিভে যায়নি। এরইমধ্যে ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছে ১৮ দিন বয়সি নবজাতক ও তার মা। ৩২ ঘণ্টা আটকে থাকার পর তাদের উদ্ধার করা হয়। তালিকায় আছে ১১ বছর বয়সি দুই শিশুর নামও। 
 
 
মোইসেস নামে এক শিশুকে প্রায় ৩ মিটার গভীর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ছয় ঘণ্টার চেষ্টায় উদ্ধার করে কলম্বিয়ার বিশেষজ্ঞ দল। পরে কারাবালেদা শহর থেকেও আরেক শিশুকে জীবিত উদ্ধারের ভিডিও প্রকাশ করে সরকার। পাশাপাশি সন্তানসহ এক বাবাকেও জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা।
 
সরকারি তথ্য মতে, এখনো কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ আছেন। জীবিত উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও আশা ছাড়ছেন না উদ্ধারকর্মীরা। দিন-রাত এক করে চলছে অনুসন্ধান। ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে স্বজনদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাটি ও কংক্রিট সরাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
 
তাদের একজন বলেন, ‘এক বন্ধুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে দেখলাম, তার সাহায্য প্রয়োজন। তাই এখানে ছুটে এসেছি। তার পরিবারের সদস্যদের জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তারপরও আমরা হাল ছাড়িনি। এখনও তার বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগ্নিকে খুঁজে চলেছি।’
 
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঞ্চলকে সম্পূর্ণ লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান নির্বিঘ্ন রাখতে সেখানে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি সেবা ও উদ্ধারকারী যানবাহনের চলাচল নিশ্চিত করতে খোলা রাখা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোও। 
 
 
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অঞ্চলে বারবার আফটারশক উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *