মঞ্চে ‘জাগো মা’ গান গাইতে গিয়ে স্কুল মালিকের হাতে নিগ্রহের শিকার লগ্নজিতা

Spread the love

শীতকালের দিকে প্রায়শই বিভিন্ন জায়গায় দেখতে পাওয়া যায় অনুষ্ঠানের আসর। নামিদামি ব্যক্তিত্বরা আসেন এই অনুষ্ঠানগুলিতে। এহেন পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরের একটি স্কুলের অনুষ্ঠানে গান গাইতে এসেছিলেন সঙ্গীতশিল্পী লগ্নজিতা চক্রবর্তী। কিন্তু মাঝপথেই আচমকা যা ঘটলো শিল্পীর সঙ্গে তা একেবারেই অভিপ্রেত নয়।

অভিযোগ, একের পর এক গান গাইতে গাইতে, দেবী চৌধুরানী সিনেমার ‘জাগো মা’ গানটি গাইতে শুরু করেন লগ্নজিতা। তখন এই গানটি গাওয়ায় আপত্তি জানানো হয়। ধর্মনিরপেক্ষ গান গাইতে হবে, এমনটাই দাবি তোলেন কিছু ব্যাক্তি। এরপরেই স্কুলের অন্যতম মালিক মেহেবুব মল্লিক স্টেজে উঠে গায়িকাকে মারধর করতে যান।

গায়িকার অভিযোগ, সন্ধ্যে ৭টা থেকে ৭:৪৫ পর্যন্ত খুব সুন্দর ভাবেই অনুষ্ঠান চলছিল। অষ্টম গানে ‘জাগো মা’ গানটি গাওয়ার সময় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দর্শক আসন থেকে মেহেবুব তাঁকে আক্রমণ করতে যান, সেই সময় স্টেজে যারা ছিলেন তারা তড়িঘড়ি ব্যাপারটিকে আয়ত্তে আনার চেষ্টা করেন কিন্তু ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে।

লগ্নজিতার অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুরু করা হয়েছে তদন্ত। এমনকি স্থানীয় থানার ওসি শাহজাহান হককেও কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে কারণ তিনি গোটা ব্যাপারটা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। মেহেবুব ছাড়া সমস্ত ঘটনার বিরুদ্ধে যারা রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানের আয়োজক সার্থক ভট্টাচার্য বলেন, ‘লগ্নজিতা জাগো মা গানটি গাইতে শুরু করলেই মেহেবুব মল্লিক দাবি জানান, সেকুলার গান গাইতে হবে। এরকম গান কিছুতেই গাওয়া যাবে না। এরপরেই তিনি হেনস্থা করতে শুরু করেন সঙ্গীতশিল্পীকে।’

এই প্রসঙ্গে এলাকার বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পান্ডা জানিয়েছেন, লগ্নজিতা অভিযোগ জানালেও এফআইআর দায়ের করা হয়নি। সংগীতশিল্পী থানায় যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মেহবুবের অনুচররা থানা ঘিরে ফেলে। এই গোটা ঘটনায় উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। কেন থানায় কমিউনাল লোকদের বসানো হয়েছে, সেটা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে মানুষের মনে।

স্কুলের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থার নেওয়ার আশা দেওয়া হয়েছে, এমনকি স্কুলের লাইসেন্স আছে কিনা সেটাও দেখা হবে আগামী দিনে। কিন্তু দিনদুপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে এমন একটা ঘটনা ঘটে যাওয়ায় তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *