‘ধর্ম অবমাননার প্রমাণ অস্পষ্ট!’ ময়মনসিংহে যুবক খুনে বিস্ফোরক বার্তা র‌্যাব-র

Spread the love

বাংলাদেশের ময়মনসিংহের যুবককে পিটিয়ে খুন এবং দেহ জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ধর্ম অবমাননার কোনও সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। এবার এমনটাই জানিয়ে দিল বাংলাদেশের র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এমনটাই খবর প্রথম আলোর সূত্রের। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। শুক্রবার রাত ৩টে নাগাদ ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ কোম্পানির অধিনায়ক নয়মুল হাসানকে উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছে, নিহত যুবক সোশ্যাল মিডিয়ায় বা প্রকাশ্যে উস্কানিমূলক কোনও কথা বলেছিলেন, এমন প্রমাণ এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তদন্তে নেমে প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন র‌্যাবের আধিকারিকেরা। তাতে জানা গিয়েছে, সেদিন উপস্থিত জনতার কেউই ওই যুবককে উস্কানিমূলক কিছু বলতে নিজেদের কানে শোনেননি। বেশির ভাগেরই দাবি, তাঁরা অন্যের মুখে বিষয়টি শুনেছিলেন। হাসানের কথায়, ‘ধর্ম অবমাননার বিষয়টি খুবই অস্পষ্ট। তিনি কী বলেছেন, তা খোঁজার চেষ্টা করলেও কেউ বলতে পারেনি। কারও সঙ্গে পূর্বশত্রুতা ছিল কিনা, সেটাও আমরা তদন্ত করে দেখব। ঘটনার সূত্রপাত কার সঙ্গে হয়েছে, সেটি শনাক্ত করা যায়নি। আমরা জানতে পেরেছি, কাজ করার সময় ফ্লোরেই বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয় এবং তাঁকে কোনওভাবেই আর কারখানার ভেতরে রাখা যাচ্ছিল না। ভিডিও ফুটেজ দেখে আমরা অভিযুক্তদের ধরেছি। কী কারণে ঘটনাটি ঘটেছে, তা উদ্‌ঘাটন ও জড়িত সবাইকে ধরতে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।’

র‍্যাব হেফাজতে থাকা কারখানার ফ্লোর ইনচার্জ আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোম্পানির বাইরে কোনও চায়ের দোকানে ওই যুবক হজরত মুহম্মদকে নিয়ে কটূক্তি করেছেন, এমন খবরে কারখানার ভেতরের শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। শ্রমিকেরা দাবি জানান, তাঁকে কারখানা থেকে বরখাস্ত করতে হবে। ওই সময় কারখানার বাইরেও একদল লোক এসে জড়ো হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কারখানা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আমরা শ্রমিককে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও কারখানার ভেতরে ও বাইরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ছিল। উত্তেজিত লোকজন ওই যুবককে নিয়ে গিয়ে এ ঘটনা ঘটায়।’ এদিকে, পুলিশের হাতে গ্রেফতার তিনজনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন। তাঁদের বিরুদ্ধে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘র‍্যাব যে সাত আসামি ধরেছে, তাঁদের আমাদের কাছে আজ দুপুর পর্যন্ত হস্তান্তর করেনি। আসামিদের আমরা পাওয়ার পর তাঁদের বিষয়ে পদক্ষেপ নেব।’

বছর ২৭-এর ওই যুবক স্থানীয় একটি পোশাকের কারখানায় কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার রাতে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে কারখানার নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে বাইরে বার করে দেওয়া হয় বলে খবর। মুহূর্তে তাঁকে ঘিরে ফেলে উন্মত্ত জনতা। বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে। তাতে যুবকের মৃত্যু হয়। এরপর দেহটি গাছের সঙ্গে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় তাতে। সেই ভিডিও দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পর যুবকের দেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ময়মনসিংহের ভালুকায় যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দশ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাঁদের মধ্যে সাত জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।’ ধৃতদের নামও প্রকাশ করেছে প্রধান উপদেষ্টার দফতর। র‌্যাবের হাতে ধৃতেরা হলেন মহম্মদ লিমন সরকার, মহম্মদ তারেক হোসেন, মহম্মদ মানিক মিয়া, এরশাদ আলি, নিজুম উদ্দীন, আলমগির হোসেন এবং মহম্মদ মিরাজ হোসেন আকন। পুলিশের হাতে ধৃতদের নাম মহম্মদ আজমল হাসান সগীর, শাহিন মিয়া এবং মহম্মদ নাজমুল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *