ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ। দেশজুড়ে অশান্তি ও বিক্ষোভের আবহে এবার বাংলাদেশের সিলেটে অবস্থিত ভারতীয় উপদূতাবাস এবং ভিসা আবেদন কেন্দ্রের নিরাপত্তা আরও বৃদ্ধি করল মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। অন্যদিকে, রবিবার থেকে বন্ধ হয়ে গেল চট্টগ্রামের ভারতীয় ভিসা সেন্টার।
ভারতীয় ভিসা সেন্টার বন্ধ
এই মুহূর্তে বাংলাদেশের পরিস্থিতি খুব খারাপ। খুন, হিংসা থেকে শুরু করে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস সকলকে সংযত এবং ধৈর্য্য ধরার কথা বললেও তা কেউ কর্ণপাত না। বরং ভারত বিরোধী হাওয়া তুলে অশান্ত করে তোলা হচ্ছে বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, হুমকি দেওয়া হয়েছে একের পর এক ভারতীয় দূতাবাসের উপর আক্রমণ করার। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার আশঙ্কার কারণে চট্টগ্রামের ভারতীয় ভিসা সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ অর্থাৎ রবিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই ভিসা সেন্টারের সব কাজ স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন। রবিবার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের আশপাশে ঘটে যাওয়া নিরাপত্তাজনিত ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে ভিসা কেন্দ্র পুনরায় চালুর বিষয়ে যথা সময়ে ঘোষণা করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা বিবেচনায় চট্টগ্রামের ভিসা কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় উপদূতাবাসে নিরাপত্তা
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ভারতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেই সিলেটের উপশহর এলাকায় অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন দফতর, একই এলাকার সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবন এবং শোভনীঘাট এলাকায় অবস্থিত ভিসা আবেদন কেন্দ্রের চারপাশে বাড়তি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়।

জানা গেছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে রাতভর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক ছিলেন। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলামকে উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘ঢাকা ট্রিবিউন’ জানিয়েছে, ‘কোনও তৃতীয় পক্ষ যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি ছড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্যই বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে ওই অঞ্চলে।’ বৃহস্পতিবার রাতে বিভিন্ন এলাকায় ভারতের উপদূতাবাস ঘেরাও করার কর্মসূচি ঘোষণা করে গণ অধিকার পরিষদ। চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। উত্তেজনা ছড়ায় সিলেটেও। সেখানে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে অবস্থানে বসে ইনকিলাব মঞ্চ। ভারত বিরোধী নানা স্লোগানও শোনা যায় বিক্ষোভকারীদের মুখে। এরপর থেকেই সতর্ক হয়েছে বাংলাদেশের নিরাপত্তাবাহিনী।