ব্যক্তিগত জীবনের ঝড়ঝাপটা যে ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরাতে পারে না, তা মঙ্গলবার প্রমাণ করে দিলেন শ্যামপুরের বিজেপি প্রার্থী হিরণ চট্টোপাধ্যায়। প্রচারের ময়দানে বারবার তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে এবং পরকীয়া নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি করেছে শাসকদল। প্রকাশ্য সভামঞ্চে সোহমকে পাশে নিয়ে হিরণকে ট্রোল করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। খেলা শেষে দেখা গেল, সোহম পরাজিত। কিন্তু ডেরায় ঢুকে ঘাসফুল উপড়ে এবার জয়ী হলেন হিরণ। আর জয়ের সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে যখন তিনি বিজয়োল্লাসে মাতলেন, তখন তাঁর ছায়াসঙ্গী হিসেবে দেখা গেল দ্বিতীয় স্ত্রী রিতিকাকে।
ব্যক্তিগত কেচ্ছা বনাম মানুষের রায়:
নির্বাচনের কয়েক মাস আগেই হিরণের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে উত্তাল হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। তাঁর প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদ, পরকীয়ার গুঞ্জন এবং রিতিকার সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়েকে ‘বেআইনি’ তকমা দিয়ে জনসভায় সরব হয়েছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু শ্যামপুরের ভোটাররা যে নেতার ব্যক্তিগত ড্রয়িংরুমের চেয়ে তাঁর কাজের প্রতিশ্রুতিতেই বেশি ভরসা রেখেছেন, তা ফলাফলেই স্পষ্ট। ২২ হাজারেরও বেশি ভোটে তৃণমূলের নাদেবাসি জানাকে পরাজিত করে শ্যামপুরের নয়া বিধায়ক হিরো হিরণ।বিজয় মঞ্চে রিতিকা:
এদিন জয়ের ব্যবধান স্পষ্ট হতেই গেরুয়া আবিরে মেতে ওঠেন হিরণ। জয়ের মিছিলে তাঁর ঠিক পাশেই হাসিমুখে দেখা যায় রিতিকাকে। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে একপ্রকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েই হিরণ যেন বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত কেবল তাঁরই।
শ্যামপুরে পরিবর্তনের হাওয়া:
তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত শ্যামপুরে হিরণের এই জয় রাজনৈতিক মহলের কাছে বড় চমক। গতবার খড়গপুর থেকে জয়ী হয়েছিলেন হিরণ। ঘাটালে দেবের বিরুদ্ধে লোকসভা ভোটে হারলেও বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি আস্থা রাখে হিরণে। আরজি কর ইস্যু থেকে শুরু করে এলাকার অনুন্নয়নকে হাতিয়ার করে যে লড়াই তিনি লড়েছিলেন, আজ তা সফল। জয়ের পর হিরণ জানান, এবার তাঁর একমাত্র লক্ষ্য শ্যামপুরের উন্নয়ন এবং মানুষের পাশে থাকা।

বিরোধীদের নীরবতা:
যে বিরোধীরা হিরণের ‘চরিত্র’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ফল প্রকাশের পর তাঁরা কার্যত স্পিকটি নট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত জীবনের আক্রমণ যে শেষমেশ বুমেরাং হতে পারে, হিরণের এই জয় তার জলজ্যান্ত উদাহরণ।