মধ্যপ্রাচ্যে চলতি বছরের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ১৬ জন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১০ জনই ছিলেন ভারতীয় নাবিক (সিফেয়ারার)। এছাড়াও সংঘাতে আহত হয়েছেন আরও ৭৫ জন ভারতীয়। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এই তথ্য জানিয়েছেন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং।
সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাসের প্রশ্নের জবাবে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের ওপর তার প্রভাব পড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে ১ জন, কুয়েতে ২ জন, ওমানে ৮ জন, ইরাকে ১ জন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে (ইউএই) ৪ জন ভারতীয়ের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১০ জনই ছিলেন ভারতীয় নাবিক, যারা যুদ্ধপ্রবণ এলাকায় কর্মরত ছিলেন।
আহতদের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউএই-তে ৩২ জন, ওমানে ২৪ জন, কুয়েতে ১৩ জন, কাতারে ৪ জন, সৌদি আরবে ১ জন এবং ইজরায়েলে ১ জন ভারতীয় আহত হয়েছেন। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আহতদের চিকিৎসা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিরাপদে ভারতে ফেরার ব্যবস্থা করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছে।
বিদেশ প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, কাতারের রাস লাফান গ্যাস প্রকল্পে সংঘাত-সম্পর্কিত নয়, এমন একটি পৃথক দুর্ঘটনায় আরও ১২ জন ভারতীয়ের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারত সরকার সংশ্লিষ্ট দেশগুলির প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারানো ভারতীয় নাবিকদের পরিবারের জন্য সরকারের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থার কথাও সংসদে তুলে ধরা হয়েছে। ‘ডিজিএমএ ওয়েলফেয়ার স্কিম’ বা ‘সিফেয়ারার্স ওয়েলফেয়ার ফান্ড সোসাইটি’-র আওতায় প্রত্যেক নিহত নাবিকের নিকটাত্মীয়কে ১০ লক্ষ টাকা করে এককালীন অনুদান দেওয়া হয়। এছাড়া যাঁরা সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন, তাঁদের পরিবার অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণও পাবে। মেরিটাইম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার সদস্য অফিসারদের ক্ষেত্রে ১২ লক্ষ টাকা এবং ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব সিফেয়ারার্স অব ইন্ডিয়ার সদস্য ক্রুদের ক্ষেত্রে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।

অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরুর পর ইরানে আটকে পড়া ২,৫৫৭ জন ভারতীয়কে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সীমান্ত দিয়ে নিরাপদে সরিয়ে ভারতে ফেরার ব্যবস্থা করেছে তেহরানে ভারতীয় দূতাবাস। বর্তমানে ইরানে প্রায় ৭,০০০ ভারতীয় রয়েছেন বলে সরকারের অনুমান। তাঁদের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষার্থী, মেডিক্যাল ছাত্রছাত্রী, শ্রমিক, নাবিক এবং মৎস্যজীবীরাও রয়েছেন।