২০২৫ সালে পহেলগাঁওতে নিরীহদের ওপর পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিদের হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে ভারতীয় বায়ুসেনা সংহার শুরু করেছিল। সেই অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’এ ভারতীয় বায়ু সেনা রাফায়েল নিয়ে হামলা চালায় পাকিস্তানি সন্ত্রাসী শিবিরগুলিতে। এরপর পাকিস্তানি দাবি করতে থাকে, তারা ভারতের রাফায়েলে পাল্টা হামলা চালিয়েছে, আর ভারত কিছু রাফায়েল যুদ্ধবিমান খুইয়েছে। সেই দাবিতে সেদিন সায় দিয়ে ভারতের বায়ুসেনার রাফালের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ফরাসী প্রাক্তন পাইলট পিয়েরে হেনরি শুয়েট। সেই শুয়েটের বিরুদ্ধে এবার চিনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ উঠল।
রাফায়েল নিয়ে পাকিস্তানের দাবি আগেই নস্যাৎ করেছে দিল্লি। এদিকে,ভারতীয় সেনা বাহিনীর রাফায়েল নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফরাসী প্রাক্তন পাইলট শুয়েট দাবি করেছিলেন, চিনের তৈরি জে ১০-সি আর জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানগুলি হল রাফায়েল ধ্বংসকারী। প্রসঙ্গত, পিয়েরে শুয়েটেরই দেশ ফ্রান্সের দাঁসো অ্যাভিয়েশন সংস্থা তৈরি করে রাফায়েল। যে রাফায়েল ভারতের বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান ভাণ্ডরের অঙ্গ। এই শুয়েটের বিরুদ্ধে এবার ফ্রান্সে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ উঠল। ফ্রান্সের অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ‘ল্য কানার অঁশেনে’ ও ‘মিডিয়াপার্ট’ -এর তথ্য অনুযায়ী, চিনের কাছে গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহের সন্দেহে শুয়েটের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগে শুয়েটকে গ্রেফতার করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছেই।
শুয়েটের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্ফোরক অভিযোগ। ফরাসি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফরাসি নৌবাহিনীতে কর্মরত থাকাকালীন ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর ও ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে তিনি অন্তত দুবার চিনে গোপন সফর করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, ওই সফরকালে তিনি একটি দক্ষিণ আফ্রিকান এভিয়েশন কোম্পানির মাধ্যমে চিনা সামরিক পাইলটদের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আয়োজন করেছিলেন এবং সম্ভবত স্পর্শকাতর অভিযান ও কৌশলগত তথ্য তাদের কাছে ফাঁস করেছিলেন।
ফ্রান্সের সামরিক বাহিনীর সংবেদনশীল তথ্য চিনের কাছে পাচারের অভিযোগের পাশাপাশি, শুয়েট একজন প্রতিরক্ষা বিষয়ক ভাষ্যকার হিসেবেও পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন। বিভিন্ন দেশের টেলিভিশন অনুষ্ঠানে নিয়মিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি তিনি একটি ইউটিউব চ্যানেলও পরিচালনা করতেন। ১০ মে ২০২৫-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওতে শুয়েট দাবি করেন যে, পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একটি জে-১০সি বিমান, পিএল-১৫ ‘বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি রাফাল বিমানকে সফলভাবে ভূপাতিত করেছে,যদিও এই দাবির কোনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। পরবর্তী ভিডিওগুলোতে তিনি পাকিস্তানের চিন-নির্মিত জে-১০সি ও জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানের কার্যক্ষমতার প্রশংসা করেন এবং সেগুলোকে এবং পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রকে ‘রাফাল-ঘাতক’ হিসেবে অভিহিত করেন। রাফায়েল নিয়া পাকিস্তানের দাবি বা শুয়েটের দাবিকে নস্যাৎ করেছে ভারতীয় বায়ুসেনা। সদ্য জুন মাসে, ভারতের এয়ার হেডকোয়ার্টার্স থেকে জারি করা একটি ‘রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল’ অনুযায়ী, ভারতীয় বিমানবাহিনী বর্তমানে পরিষেবায় থাকা ৩৬টি রাফাল বিমানের জন্যই পাঁচ মাস মেয়াদী একটি ‘ব্রিজ সাপোর্ট প্যাকেজ’-এর জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। যা প্রমাণ করে, ফ্রান্স থেকে আনা ৩৬ রাফায়েলই অক্ষতকভাবে ভারতের যুদ্ধবিমান ভাণ্ডারে রয়েছে।
