বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর তখতে বসেই প্রথম বিদেশ সফর হিসাবে তারেক রহমান বেছে নেন চিনের সফরকে। এরপর সদ্য ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে তাঁকে ভারতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে দিল্লি। এমন এক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সফর করছেন ভারতে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সার্জেই গোর। গোরের বাংলাদেশ সফরের আগে, এবার ভারত, চিন, আমেরিকার সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
বাংলাদেশে তারেক সরকারের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান, ভারত, চিন, আমেরিকার সঙ্গে তাঁর দেশের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলে বলেন, ‘আমরা কখনোই অন্য কোনও দেশের সাথে সম্পর্ক ক্ষুণ্ণ করে কোনও দেশের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলব না। প্রতিটি দেশের সাথেই আমরা আমাদের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাব,সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে আমাদের প্রচেষ্টা এটাই।’ এদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার পর এখনও ভারতের সফরে আসেননি তারেক রহমান। এই অবস্থায় খলিলুর বলছেন, , বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চিন সফরটি ভালো ছিল এবং ভবিষ্যতে তিনি যদি ভারত সফর করেন, তবে সেটিও একটি ‘খুব ভালো সফর’ হবে।
এদিকে, তারেক রহমানের চিন সফর ঘিরে ঢাকা-বেজিং সম্পর্ক নিয়ে চর্চা রয়েছে কূটনৈতিক মহলে। আর ঠিক তারপরই ভারত থেকে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাংলাদেশ সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এমন এক অবস্থায় খলিলুর রহমান বলছেন, ‘মিঃ সার্জিও গোর আমাদের এখানে এসেছেন এবং আমি সেক্রেটারি রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। এই আলোচনার মাধ্যমে আমরা সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চাই। বাংলাদেশের সম্পর্ক কেবল একটি দেশের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়, বরং অনেক দেশের সঙ্গেই আমাদের সম্পর্ক রয়েছে। এটি কোনও ‘ স্ত্রী -সতীন’-এর মধ্যের ঝগড়া নয়, বরং এই সম্পর্কগুলো পারস্পরিক স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং আমাদের স্বার্থ যেখানে নিহিত, আমরা সেখানেই যাব।’

বাংলাদেশে, জল ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে,চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তারের প্রেক্ষাপটে গোর-এর সফরটি আমেরিকার অস্বস্তি ও ভারতের উদ্বেগের বিষয়টিকে উস্কে দিচ্ছে কি না, তা রয়েছে জল্পনায়। ড. রহমান, গোরের এই সফরকে ‘অনুসন্ধানমূলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন যে, সফরের সময় মার্কিন দূত বাংলাদেশের বিষয়ে আরও বিস্তৃত ধারণা লাভের চেষ্টা করবেন, পাশাপাশি তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোও পরিদর্শন করবেন।