BJP seeks censorship campaign speech: বিধানসভা ভোটের মুখে উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ফের নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারের কিছু মন্তব্য প্ররোচনামূলক এবং নির্বাচনী আচরণ বিধির নিয়ম ভঙ্গ করেছে। এই ধরনের মন্তব্য ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে বলে তারা মনে করছে। তাই তাঁদের প্রচারে সেন্সর করার আবেদন বিজেপির।
অভিযোগের মূলে যা আছে
জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের রায়নাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে মন্তব্য করেছিলেন, তা নিয়ে বিজেপির আপত্তি রয়েছে। সভায় তিনি বলেছিলেন, ‘উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে বিজেপি ঘাড় ভেঙে দেওয়া হবে।’ এরপর তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলির প্রসঙ্গ তুলে মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। সেই জায়গা থেকেই বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যগুলি প্ররোচনামূলক এবং হিংসার আভাস দিচ্ছে। তাদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেছে। বিজেপি চায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই মন্তব্যের জন্য সেন্সর করা হোক এবং নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়ার পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। একাধিক সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের মধ্যে নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গের উল্লেখ রয়েছে।
নিশানায় মুখ্যমন্ত্রীও?
বিজেপি কেবল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেই নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও চিঠিতে উল্লেখ করেছে। জানা গিয়েছে, গত ২৫ তারিখ ময়নাগুড়িতে ভোটের প্রচারে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমার প্রার্থীকে বলে দিয়ে গিয়েছে, ওকে নাকি গাছে বেঁধে পেটাবে। আমি বলছি, এসব করতে যেও না। নির্বাচনের পরে পোস্টার লাগিয়ে বলতে হবে, আমি বিজেপি করি না।’ এই মন্তব্যকে তুলে ধরেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয় বিজেপি। যদিও সে ব্যাপারে কমিশনের তরফে এখনও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক সঙ্গে সেন্সর করার দাবি জানিয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য এই অভিযোগকে আমল দেওয়া হয়নি। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিকভাবে বিজেপিকে পরাস্ত করার কথা বলেছেন, কোনও হিংসার উস্কানি দেননি। এখন দেখার, এই অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন কোনও কড়া পদক্ষেপ নেয় কিনা।
