ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় নাবিক বহনকারী আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় ভারতে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে নয়াদিল্লি।মাত্র চার দিনের মধ্যে ভারতীয় নাবিকদের বহনকারী তৃতীয় জাহাজে হামলার পর শুক্রবার (১২ জুন) মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জেসন মিকসকে তলব করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ)। গত তিন দিনে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার নয়াদিল্লি তার অসন্তোষ প্রকাশ করল।
উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার পর ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব শিপিং (ডিজিএস) হরমুজ প্রণালি, ওমান উপসাগর এবং সংলগ্ন জলসীমায় কর্মরত প্রায় ১৮ হাজার ভারতীয় নাবিকের জন্য একটি নতুন সামুদ্রিক নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই মার্কিন দূতকে তলব করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় নাবিক থাকা তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনার পর এই সতর্কতা জারি করা হয়। এর মধ্যে ওমান উপকূলের কাছে এক হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন।
গত ৮ জুন এমটি মেরিভেক্স নামের একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার পর আগুন ধরে যায়। জাহাজে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাবিক সবাই নিরাপদ ছিলেন।
দ্বিতীয় হামলাটি হয় ১০ জুন ওমান উপসাগরে এমটি সেত্তেবেলো জাহাজে। এতে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। ২১ জনকে উদ্ধার করা হলেও প্রথমে নিখোঁজ থাকা তিন ভারতীয় নাবিক পরে নিহত বলে নিশ্চিত করা হয়।
তৃতীয় হামলার ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার। ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় নাবিক বহনকারী আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়, যা এ অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তৃতীয় হামলার শিকার এমটি জলভীর জাহাজে ২০ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন।
ভারতের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজ প্রণালির পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের জলসীমায় ভারতীয় পতাকাবাহী ১৩টি জাহাজে মোট ৬২২ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত রয়েছেন।

এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন বিদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে প্রায় ১৮ হাজার ভারতীয় কাজ করছেন। ফলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর একটি ভারত।
ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নাবিক সরবরাহকারী দেশ। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন জাহাজে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার ভারতীয় নাবিক কর্মরত রয়েছেন।