চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের অন্তত ৫০টিরও বেশি সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সদরদফতর, বিমানঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র এবং নৌবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা।
স্যাটেলাইট ছবি পর্যালোচনা করে বিবিসি ভেরিফাই জানিয়েছে, দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা একাধিক সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হামলায় ইরানের যুদ্ধবিমান, নৌযান এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
সবশেষ গত মঙ্গলবার ও বুধবার রাতে একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা ঘটে। একই সময়ে ইসরাইল ও ইরানও একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালায়। ইসরাইল দক্ষিণ বৈরুত এবং ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়।
যদিও এক মাসেরও বেশি সময় ধরে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে ইরানকে পরাজিত করেছে। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের নৌবাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের বিমানবাহিনীও সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে।’
তবে বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণ মতে, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরও ইরান যুদ্ধবিরতির সময়কে কাজে লাগিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির টানেল প্রবেশপথ মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অঞ্চলের স্যাটেলাইট চিত্রের প্রাপ্যতা সীমিত করার চেষ্টা করেছে। মার্চ মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেটকে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ এলাকার নতুন ছবি প্রকাশ সীমিত করার অনুরোধ জানায়।

প্ল্যানেট জানায়, তাদের এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ছিল যাতে স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে কোনো প্রতিপক্ষ শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও ন্যাটো অংশীদারদের সামরিক বা বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা করতে না পারে।সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি যে কোনো সময় আবারও সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে।