মিয়ানমারের ৬০টি টাউনশিপে সামরিক আইন জারি করা হয়েছে। দেশটির জান্তা নেতা থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হ্লাইং নতুন জরুরি অধ্যাদেশ জারি করে এসব এলাকায় সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছেন। বেসামরিক শাসনে রূপান্তরের পরও যেসব এলাকায় সংঘাত চলছে, সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
এই অধ্যাদেশের আওতায় কাচিন, কায়াহ, কারেন (কায়িন), চিন, শান ও রাখাইন রাজ্যসহ সাগাইং, মাগওয়ে ও মান্দালয় অঞ্চলের মোট ৬০টি টাউনশিপ রয়েছে। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর এসব এলাকায় আগেই বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও কারফিউ জারি করা হয়েছিল।
আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৯০ দিনের এই জরুরি অবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসবাদ দমন’ এবং ‘আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা’ করা।
আরেক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই সময়ের জন্য ওইসব এলাকায় নির্বাহী ও বিচারিক সব ক্ষমতা মিয়ানমারের নতুন সামরিক প্রধান ইয়ে উইন উ-এর হাতে দেয়া হয়েছে। এটি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে মিন অং হ্লাইংয়ের প্রথম বড় পদক্ষেপ।২০২১ সালে সামরিক বাহিনী নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এতে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়ে যা এক পর্যায়ে সশস্ত্র প্রতিরোধে রূপ নেয়।

ক্ষমতা দখলের পর মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন জান্তা সারা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে, যা কয়েক দফা বাড়ানো হয়। পরে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন করা হলেও সমালোচকদের মতে তা অবাধ বা সুষ্ঠু ছিল না। এরপর চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন মিন অং হ্লাইং।