কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির সফর ঘিরে হওয়া বিশৃঙ্খলার ঘটনায় তদন্ত ক্রমেই জটিল আকার নিচ্ছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা থেকে শুরু করে টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়া ও আর্থিক লেনদেন- সব দিক খতিয়ে দেখতে তৎপর পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল সিট। মেসিকাণ্ডে এবার সিটের স্ক্যানারে অনলাইনে টিকিট বিক্রির সংস্থার কর্তা। বুধবারই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসি-কাণ্ডে ধৃত উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের মুখোমুখি বসিয়ে ওই অনুষ্ঠানের অনলাইনে টিকিট বিক্রির সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
মঙ্গলবারই দিল্লি থেকে কলকাতা আসেন টিকিট বিক্রয়কারী সংস্থার ডিস্ট্রিক্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট। এরপরেই বুধবার শতদ্রু দত্ত এবং তাঁকে মুখোমুখি বসিয়ে সিটের জিজ্ঞাসাবাদে টিকিট ফেরত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এল। বিধাননগর পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অনুষ্ঠানের প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্ত পুলিশকে জানিয়েছেন, টিকিট বিক্রির টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা পড়লেই তিনি টাকা ফেরত দিতে পারবেন। বলে রাখা ভালো, ১৩ ডিসেম্বর সল্টলেক স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বহু দর্শক টিকিট কেটেও লিওনেল মেসির এক ঝলক দেখতে পাননি। সেই কারণেই তাঁরা টাকা ফেরতের দাবি তোলেন। তদন্তের সঙ্গে যুক্ত এক পুলিশ আধিকারিক জানান, শতদ্রু দত্ত স্পষ্ট করে বলেছেন, টিকিট বিক্রির টাকা তাঁর হাতে এলেই রিফান্ড প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব। কিন্তু টিকিট বিক্রয়কারী সংস্থা এখনও কোনও টাকা তাঁকে দেয়নি।
তবে এই বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যও সামনে এসেছে। টিকিট বিক্রি করা বেসরকারি সংস্থার ওই কর্তা পুলিশকে জানিয়েছেন, সংস্থার সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী বিক্রিত টাকার একটি অংশ ইতিমধ্যেই তাঁর সংস্থায় পাঠানো হয়েছে। এই দাবিদাওয়া খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্তকারী দল সিট পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, সল্টলেক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠান ভেস্তে যাওয়ার পর আয়োজককে গ্রেফতার করার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ টিকিট বিক্রি করা সংস্থাকে টিকিট বিক্রির টাকা বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেয়। এবং শতদ্রুকে কোনও টাকা পাঠাতে না বলে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, অনুষ্ঠানের কর্পোরেট স্পনসরশিপ দেওয়া ছ’টি সংস্থার কর্তাদের তলব করা হয়েছে। বিধাননগর সিটি পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁদের তদন্তকারী দলের সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে। শতদ্রুর সঙ্গে তাঁদের আর্থিক চুক্তি ও লেনদেন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সিট সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই শতদ্রু দত্তের মোট তিনটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে । তদন্তকারীদের অনুমান, এই মোবাইলগুলির মাধ্যমেই ইভেন্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন অনলাইন টিকিট সংস্থা, স্পনসর এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হত। এই ফোনগুলির কল ডিটেলস, চ্যাট ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল । তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এর আগেই মেসির ইভেন্ট সংক্রান্ত বিশৃঙ্খলার ঘটনায় অনলাইন টিকিট বিক্রির সংস্থার তিন শীর্ষ আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিট।
