মোদীর সঙ্গে বৈঠক করলেও একদা প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেননি খালেদা জিয়া

Spread the love

২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। তবে এর ২ বছর আগেই ২০১৩ সালে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে আপত্তি জানিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তখন খালেদা জিয়া বাংলাদেশের বিরোধীদলনেত্রী ছিলেন। ২০১৩ সালে ঢাকা সফরে গিয়েছিলেন প্রণববাবু। তবে সুরক্ষার ইস্যু তুলে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেননি খালেদা জিয়া। এর জন্য হাসিনা তাঁর সমালোচনা করেছিলেন।

সেই ঘটনা নিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের সচিব রঞ্জন মাথাই বলেছিলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার বৈঠকের সময় আগে থেকেই ঠিক করা হয়েছিল। এটি বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের প্রোগ্রামের অংশ ছিল। প্রোগ্রামটি গ্রহণ করা হয়েছিল।’ যদিও পরে সেই সাক্ষাৎ বাতিল করেছিলেন খালেদা। অবশ্য, এর আগে ২০১২ সালে দিল্লিতে গিয়ে প্রণব মুখাপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন।

তবে ২০১৩ সালে প্রণববাবুর বাংলাদেশ সফরের সময় জামাত প্রতিবাদ করছিল। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর হয়ে গণহত্যায় অংশ নেওয়ায় ৩ জামাত নেতাকে সাজা শোনানো হয়েছিল। এই আবহে খালেদা জিয়া দাবি করেছিলেন, তিনি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাঁর প্রাণসংশয় হতে পারে। পরে এই নিয়ে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘ভারতীয় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক বাতিল করতে হয়েছিল কারণ তখন আমরা ইনপুট পাই যে আমি যদি তার সাথে দেখা করতে যাই তবে আমার উপর আক্রমণ করা হতে পারে। এমনকি সেই হামলা প্রাণঘাতী হতে পারত। প্রণব মুখোপাধ্যায়ের হোটেলের সামনে সেই সময় পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণ হয়েছিল।’

পরে ২০১৫ সালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে মোদীর সাক্ষাৎ হয়েছিল। সেই সাক্ষাতের দুটি ছবি আজ পোস্ট করেন মোদী। খালেদা জিয়ার প্রয়াণে মোদী পোস্ট করে লেখেন, ‘বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তাঁর পরিবার এবং বাংলাদেশের সকল মানুষের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা। ঈশ্বর তাঁর পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দান করুন। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়নে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ঢাকায় ২০১৫ সালে তাঁর সঙ্গে আমার সাক্ষাতের কথা আমি স্মরণ করছি। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এবং উত্তরাধিকার দুই দেশের অংশীদারিত্বকে পরিচালিত করবে বলে আমরা আশা করি। আমি তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *