Hindu family missing: রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগে উত্তাল বাংলাদেশ। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু’ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ রয়েছে অনেকেরই। এই আবহে চাঁদপুর শহরের মদিনা মার্কেটের ব্যবসায়ী পিন্টু দাস-সহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বুধবার পিন্টু দাসের নিকটাত্মীয় ও চাঁদপুর জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এই ঘটনায় ওপার বাংলায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, চাঁদপুর শহরে ‘এসকে শিল্পালয়’ নামে দোকান রয়েছে পিন্টু দাসের। স্ত্রী রিমি, বড় ছেলে প্রিয়ম এবং ছোট ছেলে রূপমকে নিয়ে চাঁদপুর শহরে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। উপমা দে-র অভিযোগ, সম্প্রতি পাটোয়ারী বাড়ির এক ব্যক্তি পিন্টু দাসকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন। কয়েক দিন আগে পিন্টুর স্ত্রী-ছেলেরাও বিষয়টি জানতে পারেন। তার পরেই সপরিবার আচমকা নিখোঁজ হয়ে যান পিন্টু। তিনি কোথায় পালিয়ে গিয়েছেন, না তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, পিন্টু সপরিবার ভারতে পালিয়ে এসেছেন।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অন্য একটি সূত্রের দাবি, পিন্টুরা সম্ভবত আত্মগোপন করে আছেন। তাঁদের দাবি, পিন্টু দাস সোনার বন্ধকি কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি কয়েকজনের কাছ থেকে সোনা বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার পর সময়মতো সেই সোনা ফেরত দিতে পারছিলেন না। সেই নিয়ে হুমকির মুখেও পড়েছিলেন। পাশাপাশি, বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার নামে ঋণ নেওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন বলে দাবি তাঁদের। স্থানীয়দের বক্তব্য, একাধিক জায়গায় দোকান পরিবর্তনের পর সর্বশেষ শহরের মদিনা মার্কেটে ‘এস কে শিল্পালয়’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান খোলেন পিন্টু দাস।
রঘুনাথপুরের বাসিন্দা রাসেল খান অভিযোগ করেন, তিনি পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি সোনা ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। পরে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে সোনা নিতে গেলে পিন্টু দাস তাঁকে পরের দিন আসতে বলেন। এরপর পিন্টু দাস সপরিবারে নিখোঁজ হওয়ার খবর পান তিনি। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও জানান রাসেল। দক্ষিণ গুণরাজদীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা সোনা পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেছেন। তাঁরা জানান, প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে মদিনা মার্কেটে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন পিন্টু দাস। তাঁর মূল বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। কুমিল্লা ও মুদাফফরগঞ্জে তার আত্মীয়স্বজন রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের অভিযোগ, পিন্টু কোথাও আত্মগোপন করে রয়েছেন।

তবে পিন্টু দাসের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়েছে কিনা, তা এখনও জানা যায়নি। নিশ্চিত ভাবে কিছু বলতে পারেনি পুলিশ। চাঁদপুর সদর মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার ফেরদৌস বলেন, ‘পিন্টু দাস সপরিবারে আত্মগোপনে থাকলে তাঁকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেছেন কিনা, তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।’ তবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি। তিনি বলেন, ‘পিন্টু দাস-সহ তাঁর পরিবারের চারজন নিখোঁজের বিষয়টি এইমাত্র জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’