অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় সেনার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। গত বছর অভিযানের সময় ছয় ভারতীয় সেনাকর্মী শহিদ হয়েছিলেন বলে সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার স্বীকার করার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বিরুদ্ধে সংসদে ‘ভুল তথ্য’ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে লোকসভায় স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধান বিরোধী দল।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই নোটিস দাখিল করবেন কংগ্রেসের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল। একই সঙ্গে তিনি বর্তমানে লোকসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (পিএসি)-র চেয়ারম্যান হওয়ায় তাঁর অভিযোগকে রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, গত বছর ২৮ জুলাই লোকসভায় পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা এবং তার পাল্টা হিসেবে চালানো অপারেশন সিঁদুর নিয়ে আলোচনার সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, ওই অভিযানে ভারতীয় বাহিনীর কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং কোনও জওয়ান শহিদ হননি। সেই বক্তব্যের সরকারি রেকর্ডও অভিযোগপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে কংগ্রেস।
অন্যদিকে, সম্প্রতি সরকারিভাবে প্রকাশিত তথ্য এবং শহিদ সেনাদের মরণোত্তর সম্মান প্রদানের তালিকা থেকে জানা যায়, অপারেশন সিঁদুরে মোট ছয়জন ভারতীয় সেনাকর্মী প্রাণ হারিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর সুবেদার মেজর পবন কুমার, রাইফেলম্যান সুনীল কুমার, ল্যান্স নায়েক দীনেশ কুমার, অগ্নিবীর মুড মুরলি নায়েক, হাবিলদার সুনীল কুমার সিং এবং ভারতীয় বায়ুসেনার সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমার। তাঁদের নাম সরকারি ওয়েবসাইটের ২০২৫ সালের ‘৩ডি ওয়াল’ অংশেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে কংগ্রেসের দাবি।
এই তথ্য সামনে আসার পর কংগ্রেসের অভিযোগ, সংসদে প্রতিরক্ষামন্ত্রী যে তথ্য দিয়েছিলেন, তা সরকারের বর্তমান স্বীকারোক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ । তাই সংসদকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস আনা হচ্ছে। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁর দাবি, সংসদে দেওয়া বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে এবং বিরোধীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিতর্ক তৈরি করার চেষ্টা করছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, সংসদে মন্ত্রীদের দেওয়া প্রতিটি বক্তব্য তথ্যভিত্তিক ও নির্ভুল হওয়া উচিত। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের অপব্যাখ্যা করে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। এখন লোকসভার স্পিকার স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস গ্রহণ করেন কি না, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।