রাজ্য PSC পরীক্ষায় ১৮ স্থান অর্জন সোনুর

Spread the love

Success Story: কৃষক পরিবারের সন্তান। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। দারিদ্র্যতার সঙ্গে মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতা এবং তীব্র মানসিক অবসাদের মতো চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হতে হয়েছিল। কিন্তু সেইসব বাধা অতিক্রম করে মধ্যপ্রদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (MPPSC) পরীক্ষায় বাজিমাত করেছেন সোনু কুর্মি। বর্তমানে মধ্যপ্রদেশ পুলিশের ডিএসপি পদে কর্মরত আছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে আত্মবিশ্বাস থাকলে এবং কঠোর পরিশ্রম করলে কোনও স্বপ্নই অসম্ভব নয়।

ক্ষেতে বাবার হাত ধরা থেকে শিক্ষার যুদ্ধ

সোনুর শৈশব সহজ ছিল না। বাবা প্রান্তিক কৃষক। আর্থিক হাল ছিল অত্যন্ত নড়বড়ে। নিত্যদিনের আর্থিক অনটন সত্ত্বেও সোনু কখনও নিজের পড়াশোনার সঙ্গে আপস করেননি। দিনের বেলায় প্রখর রোদে বাবার সঙ্গে জমিতে নেমে কোদাল চালানো, ফসলের পরিচর্যা করা এবং ঘরের যাবতীয় কাজ সামলে রাতে পড়তে বসা- এটাই ছিল তাঁর প্রতিদিনের রুটিন।

মারাত্মক অসুস্থতা ও ডিপ্রেশনের কালো মেঘ

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় সোনুর জীবনে নেমে আসে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। হঠাৎ করেই মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন। শারীরিক সমস্যা এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে দৈনন্দিন পড়াশোনার স্বাভাবিক ছন্দ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। এর ফলে ধীরে-ধীরে তিনি গভীর মানসিক চাপ ও ডিপ্রেশনের (অবসাদ) শিকার হয়ে পড়েন। তবে পরিবার পাশে থাকায় এবং নিজের উপরে বিশ্বাস রাখায় ধীরে-ধীরে অবসাদ থেকে বেরিয়ে আসেন এবং নতুন উদ্যমে পড়াশোনা শুরু করেন।

প্রতিদিন ১৬-১৮ ঘণ্টার কঠোর পরিশ্রম ও MPPSC-তে সাফল্য

ডিপ্রেশন জয় করে মাঠে ফেরার পর সোনু তাঁর পড়াশোনার কৌশল পুরোপুরি বদলে ফেলেন। প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্ন পড়াশোনা শুরু করেন। প্রথম চেষ্টায় MPPSC পরীক্ষায় ব্যর্থ হলেও তিনি দমে যাননি। নিজের ভুল ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে দ্বিগুণ শক্তিতে দ্বিতীয়বার পরীক্ষার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁর এই নিষ্ঠা ও পরিশ্রম বৃথা যায়নি। ২০১৫ সালের MPPSC PCS পরীক্ষায় সামগ্রিকভাবে অষ্টাদশ স্থান অধিকার করেন। মধ্যপ্রদেশ পুলিশের ডিএসপি (DSP) পদে নির্বাচিত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *