ইসলামবিদ্বেষের গল্প বানিয়ে সহানুভূতি চায় পাকিস্তান। আর সেই বিষয়টা নিয়েই এবার রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে সরব হল ভারত। এরই সঙ্গে ভারত দাবি করে, অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কোঅপারেশনকে ভারতের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে পাকিস্তান। এহেন পাকিস্তানিরা আফগান এবং নিজেদের দেশের আহমেদিয়াদের ওপর যে হামলা চালাচ্ছে, তা নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে বক্তব্য পেশ করেন ভারতের দূত পর্বতনেনি হরিশ।
রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত ভারতীয় দূত বলেন, ‘ইসলামোফোবিয়ার মনগড়া গল্প তৈরি করার ক্ষেত্রে দুর্দান্ত এক উদাহরণ ভারতের পশ্চিমের প্রতিবেশী দেশ।’ মুসলিম বিদ্বেষ নিয়ে পাকিস্তানের অভিযোগের জবাবে ভারতীয় দূত বলেন, ‘ভারত ২০ কোটিরও বেশি মুসলিমের দেশ। বিশ্বের অন্যতম বড় মুসলিম জনসংখ্যা ভারতে বসবাস করে। তা সত্ত্বেও অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কোঅপারেশনকে ভারতের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায় আমাদের পশ্চিমের প্রতিবেশী। তারা আমার দেশ নিয়ে ভিত্তিহীন ভুয়ো দাবি করে আসছে। জম্মু ও কাশ্মীর সহ গোটা ভারতের মুসলিমরা নিজেদের জনপ্রতিনিধি বেছে নেন। ভারতের বহুজাতিক সহাবস্থানকে ভয় পাচ্ছে ওরা। স্বাধীনতার পর থেকে তাদের বিভাজন এবং সন্ত্রাসবাদী মানসিকতা এতে করে প্রতিফলিত হয়। বিশ্বের প্রধান চারটি ধর্মের জন্মস্থান ভারত। ভারত ধর্মীয় বৈষম্যমুক্ত বিশ্বের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ভালো ভাবে সচেতন।’
এদিকে পাকিস্তানকে খোঁচা দিয়ে পর্বতনেনি বলেন, ‘আমাদের পশ্চিমের প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘুদের আহমেদিয়াদের ওপর যে অত্যাচার হয়, সেটাকে কী বলা হয়? এদিকে অসহায় আফগানদের ওপর যেভাবে হামলা চলছে, এই পবিত্র রমজান মাসে আফগানদের ওপর এয়ারস্ট্রাইক চলছে, সেটাকেই বা কী বলা হয়?’ উল্লেখ্য, এর আগেও আফগানিস্তানের ওপর পাকিস্তানের হামলার নিন্দা জানিয়ে রাষ্ট্রসংঘে সরব হয়েছিল ভারত। এদিকে গতকালই কাবুলে একটি হাসপাতালে হামলা চালিয়ে ৪০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছে পাকিস্তান। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের ইসলামোফোবিয়ার অভিযোগের পালটা তোপ দেগে তাদের আয়না দেখাল ভারত।
