রাহুলের মৃত্যুর বিষয়ে স্বচ্ছ উত্তর চেয়ে প্রযোজনা সংস্থাকে চিঠি আর্টিস্টস্ ফোরামের

Spread the love

তালসারিতে শ্যুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রে তলিয়ে গিয়ে প্রয়াত হন অভিনেত তথা লেখক রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে শ্যুটিংয়ের সময় নিরাপত্তার অভাব, অব্যবস্থা, গাফিলতির নানা অভিযোগ উঠে আসে। তাছাড়াও তাঁদের পক্ষ থেকে বলা কথার মধ্যেও নানা অসংগতি দেখা যায়। ফলে সবটা মিলিয়ে বুধবার ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে একটি মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়। সেই মিটিংয়ে শেষে একটি বিবৃতি জারি করা হয়।

ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে সেই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গত রবিবার বিকেলবেলা ওড়িশার তালসারিতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ নামক সিরিয়ালের শ্যুটিং করতে গিয়ে আমাদের সংগঠনের সদস্য ও বিখ্যাত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে সমুদ্রের জলে ডুবে মারা যান। তাঁর মা, স্ত্রী ও পুত্রের সঙ্গে সঙ্গে গুণমুগ্ধ দর্শক এবং বন্ধুরা শোকে হতবাক। আমরা তাঁর পরিবারের পাশে থাকতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

এরপরই প্রযোজনা সংস্থার অব্যবস্থা ও তাঁদের পক্ষ থেকে বলা কথার অসংগতির প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, ‘কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে এই মৃত্যুকে ঘিরে যে সমস্ত ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে এবং প্রযোজক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন স্ববিরোধী মন্তব্য করছেন তাতে খুবই দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে সবাই। এতরকম স্ববিরোধী মন্তব্যের মাঝে হারিয়ে যাচ্ছে আসল প্রশ্ন গুলো, কেন রাহুল কে এই দুর্ঘটনায় পড়তে হল? তাহলে কি বিপদে পড়া যেকোনো শিল্পীকে বা কলাকুশলীকে বাঁচাবার কোন ব্যবস্থা প্রযোজকদের তরফ থেকে আগে থেকে করা হয়নি? এই বিপদজনক জায়গাতে শুটিং করা হলোই বা কেন? এরকম আরও অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে ওর পরিবার, ওর বন্ধুরা, ওর গুণমুগ্ধ দর্শকরা আর আমরা ওর সহকর্মীরা।’

আরও বলা হয়, ‘আমরা তাই আমাদের W.B.M.P.A.F. এর তরফ থেকে এই দুর্ঘটনার বিষয়ে একটা স্বচ্ছ উত্তর চেয়ে ওই প্রযোজক সংস্থাকে চিঠি দিয়েছি। আশা করি তাঁরা আমাদের যথাযথ উত্তর দেবেন। যদি তাঁরা উত্তর না দেন তাহলে যথাযথ পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর্টিস্টস্ ফোরাম’।

প্রসঙ্গত, তালসারিতে রাহুলের জলে ডুবে যাওয়া প্রসঙ্গে মেগার প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এক সংবাদ মাধ্যমের কাছে দাবি করেছিলেন, ‘রাহুল খুব পারফেকশানিস্ট। ওঁর মনে হয়েছিল একটা ড্রোন শট নেব। সব হয়ে যাওয়ার পর ওই ডিরেক্টরকে রিকুয়েস্ট করে। আমি যা শুনেছি তাই বলছি। প্রথমে আমি শুনেছি ওদের প্যাকআপ হয়ে গিয়েছিল। ওই রিকুয়েস্ট করে। ডিরেক্টর বলে, এটা নেই স্ক্রিপ্টে। তুমি এটা কেন করতে যাচ্ছো? ওই বলে ‘নে না, নে না। একটা ড্রোন শট দেব’। হাঁটু জলেই শ্যুট চলছিল বলে বারবার দাবি করেন লীনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *