Ration Corruption Action: পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক রদবদলের পর এবার খাদ্য ও সরবরাহ দফতরে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন নবনিযুক্ত খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। সোমবার দায়িত্ব পাওয়ার পর বুধবার বিধানসভায় বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়েই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন তিনি। সাফ জানিয়েছেন, রেশন ব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির যে শিকড় ছড়িয়ে রয়েছে, তা তিনি উপড়ে ফেলতে বদ্ধপরিকর। সাধারণ মানুষের পাত থেকে নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী সরিয়ে উন্নত মানের গম ও চাল নিশ্চিত করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
এদিন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এখন থেকে রেশন দোকানগুলোতে আর আটা সরবরাহ করা হবে না। পরিবর্তে উপভোক্তারা পাবেন উন্নত মানের গম। তাঁর বক্তব্য, মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনও ঝুঁকি নেওয়া হবে না। বর্তমানে সরকারি গুদামে যেটুকু আটা মজুত আছে, সেটুকুই বিলি করা হবে; এর বাইরে নতুন করে আর কোনও আটা সংগ্রহ করবে না দফতর। সাধারণ মানুষের পাতে উন্নত মানের চাল ও গম নিশ্চিত করতে তিনি বদ্ধপরিকর। পাশাপাশি দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিক ও ব্যবসায়ীদের কড়া ভাষায় সতর্ক করে অশোক কীর্তনিয়া বলেন, ‘খাদ্য দফতরে এক টাকার দুর্নীতিও বরদাস্ত করা হবে না। কেউ যদি আমাকে টাকা দিয়ে কিনতে চান, তবে তিনি জীবনের সবথেকে বড় ভুল করবেন।’
তিনি আরও যোগ করেন যে, জুন মাস থেকে কোনও রেশন দোকানে নিম্নমানের চাল দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরাসরি সেই দোকানের লাইসেন্স বাতিল করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। দুর্নীতির পাশাপাশি সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার রুখতেও বিশেষ পদক্ষেপ নিতে চলেছেন নতুন খাদ্যমন্ত্রী। পরিচয়পত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি করছেন নতুন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যাঁদের কাছে ভারতের বৈধ নাগরিকত্বের প্রমাণ নেই, তাঁরা সরকারি রেশন বা কোনও সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। মূলত ভুয়ো রেশন কার্ড বাতিলের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। পাশাপাশি, পূর্বতন সরকারের আমলের খাদ্য দফতরে যে আর্থিক দুর্নীতির পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ উঠেছিল, সেই ফাইলও ফের খুলতে চলেছেন অশোক কীর্তনিয়া। তিনি জানিয়েছেন, আগের মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ রয়েছে, সেগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে এবং দোষী কাউকে রেয়াত করা হবে না। দুর্নীতির এই বিশাল চক্র ভাঙতে তিনি আধিকারিকদের মাত্র এক সপ্তাহ সময় দিয়েছেন। প্রশাসনিক মহলের ধারণা, খাদ্যমন্ত্রীর এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে এবং রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে বড় ভূমিকা নেবে।
