Summer Vacation Extended: রোদের তেজ আর প্যাচপ্যাচে গরম থেকে এখনই মুক্তি পাচ্ছে না রাজ্যবাসী। আর সেই কথা মাথায় রেখেই রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলগুলোতে গরমের ছুটি বাড়ানোর বড় সিদ্ধান্ত নিল সরকার। আগামী ১৮ মে স্কুল খোলার কথা থাকলেও, আপাতত তা হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে শিক্ষা সচিবকে-এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জুন থেকে স্কুল খোলার কথা। ফলে আরও কিছুদিন বাড়িতেই ছুটি উপভোগ করতে পারবে খুদে পড়ুয়ারা।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরই সিদ্ধান্ত
স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দফতরে সচিবের একটি বৈঠক হয়। এই বৈঠকের পরেই সরকারি এবং সরকার পোষিত স্কুলগুলিতে ছুটি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। রাজ্যে তীব্র গরমের কারণে পাহাড়ি অঞ্চল বাদ দিয়ে বাকি সমস্ত জায়গার স্কুলে গরমের ছুটি বাড়ানো হয়েছে। ১৩ মে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে স্কুল শিক্ষা দফতর জানিয়েছে, রাজ্যের সব স্কুলে ৩১ মে পর্যন্ত এই ছুটি বহাল থাকবে। আরও ১৪ দিন ছুটি দেওয়া হল স্কুলগুলিতে। সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত, প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক-সব স্তরের স্কুলেই (পাহাড়ি এলাকা ছাড়া) এই বর্ধিত ছুটি কার্যকর হবে। ১১ মে থেকে শুরু হওয়া গরমের ছুটি এবার বাড়িয়ে ৩১ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। এরপর ১ জুন থেকে স্কুলগুলি খুলবে।
স্বস্তিতে অভিভাবকরাও
গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে যেভাবে গরমের দাপট চলছে, তাতে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন অভিভাবকরা। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমল। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মে মাসের শেষেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পড়ুয়াদের স্বার্থেই এই ‘সামার ভ্যাকেশন’ দীর্ঘায়িত করার পথে হাঁটল বিকাশ ভবন। আপাতত ১ জুন পর্যন্ত স্কুলে যাওয়ার তোড়জোড় বন্ধ রেখেই গরমের ছুটি কাটাতে পারবে বাংলার পড়ুয়ারা।

অন্যদিকে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, ‘গরমের ছুটি বৃদ্ধি করা হলো। আমরা বহুদিন থেকে শিক্ষা দফতর এবং সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছি বাস্তবতার ভিত্তিতে পূর্বের ৮০টি ছুটি ফিরিয়ে দেওয়া হোক এবং তার ভিত্তিতে বিভিন্ন জেলার পরিস্থিতি অনুযায়ী ছুটি দিতে পারবে। এর ফলে পরিকল্পনা মাফিক পঠনপাঠন চলতে পারবে। সরকারকে আলাদাভাবে ছুটি ঘোষণা করতে হবে না। নতুন সরকার এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবুক।’