আইপিএল-এর জনক তিনি। কিন্তু গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের বাইরে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। আইপিএল-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান ললিত মোদীকে নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। এবার দেশ ছাড়ার আসল কারণ নিয়ে এক মারাত্মক ও বিস্ফোরক দাবি করলেন তিনি। ললিত মোদীর দাবি, ক্রিকেট প্রশাসন থেকে সরে যাওয়ার পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন দাউদ ইব্রাহিম এবং তার লোকজনের কাছ থেকে পাওয়া একাধিক প্রাণনাশের হুমকি। এছাড়াও লন্ডনপ্রবাসী মোদী একাধিক প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয়, যাবতীয় বক্তব্য ও অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ পেশ করেননি। এগুলি, আপাতত, তাঁর ব্যক্তিগত দাবি হিসেবেই সামনে এসেছে।
খুনের ছক থেকে ক্রিকেট ছাড়া
ললিত মোদীর দাবি, আইপিএলের শুরুর দিনগুলোতে ম্যাচ ফিক্সিং ও বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ বা আপসহীন নীতি নিয়েছিলেন। আর এটাই কাল হয়েছিল তাঁর জন্য। ক্রিকেট জুয়া এবং স্পট ফিক্সিংয়ের কোটি কোটি টাকার ‘সত্তা বাজার’ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইত আন্ডারওয়ার্ল্ড। আর তাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মোদী। তাঁর অভিযোগ, দাউদের নেটওয়ার্ক আইপিএলের দল বা ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানার মধ্যেও নিজেদের আধিপত্য কায়েম করতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি শক্ত হাতে সেই চেষ্টা রুখে দেন। এরপরেই বুকি এবং জুয়াড়িরা তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বুকিরা তখন মাঠে গোপন কোড বা সঙ্কেতের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখত, যার ওপর কড়া নজর রাখতেন ললিত মোদী।
এখানেই শেষ নয়, ললিত মোদী দাবি করেছেন যে তাঁর জীবন কেড়ে নেওয়ার জন্য একাধিকবার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মুম্বইয়ে তাঁর বাড়ির বাইরে গুলি চলেছিল, জোহানেসবার্গ ও মন্টিনিগ্রো সীমান্তেও তাঁকে টার্গেট করার চেষ্টা হয়েছিল। আতঙ্কের সেই দিনগুলির কথা মনে করিয়ে মোদী আরও এক মারাত্মক অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, সেই সময় হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি লন্ডনে তাঁর একমাত্র ছেলেকে অপহরণ পর্যন্ত করা হয়েছিল।

‘পলাতক’ তকমা প্রত্যাখ্যান
ভারতের আইন ব্যবস্থার চোখে তিনি এখনও ‘পলাতক।’ যদিও নিজেকে পলাতক বা ‘ফিউজিটিভ’ তকমা দিতে নারাজ ললিত মোদী। তাঁর যুক্তি, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যদি সত্যিই তাঁকে ফিরিয়ে আনতে চাইত, তবে তারা বহু বছর আগেই তা করতে পারত। আদালত এখনও তাঁকে কোনও অপরাধে দোষী সাব্যস্ত বা কনভিক্ট করেনি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি যে কোনও সময় ভারতে ফিরতে পারেন, কিন্তু নিজের নিরাপত্তা এবং তাঁর বিরুদ্ধে চলা মামলাগুলোর পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের আশঙ্কা থাকার কারণেই তিনি ফিরছেন না। তাঁর কথায়, ‘আমি মোটেই পালিয়ে বেড়াচ্ছি না। আমি সারা বিশ্ব ঘুরে বেড়াচ্ছি। যদি আমি পালাতাম, আপনারা আমাকে কোনও না কোনও জায়গা থেকে তুলে নিতেন। ভারত সরকারের হাত অনেক লম্বা। আপনি ভারত সরকারের মোকাবিলা করতে পারবেন না। আর আমার তেমন কোনও ইচ্ছাও নেই। দোষটা সরকারের নয়। দোষটা গণমাধ্যমের।’