আরও একটি ইউক্রেনীয় বসতি বা গ্রাম রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ভোস্টক (পূর্ব) বাহিনীর একটি সেনাদল ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে অগ্রসর হয়েছে এবং চেরভোন বসতি দখল করেছে। তবে এ ব্যাপারে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি কিয়েভ।
এর আগে গত সোমবার (১ ডিসেম্বর) ইউক্রেনের দোনেৎস্কের পোকরোভস্ক শহরের দখলের দাবি করে মস্কো। তবে ইউক্রেনীয় বাহিনী এই দাবি নাকচ করে জানায়, শহরের উত্তরাংশ এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। পাল্টা প্রমাণ হিসেবে রুশ প্রতিরক্ষা দফতর একটি নতুন ভিডিও প্রকাশ করেছে যেখানে তাদের সেনা সদস্যদের রাশিয়ার পতকা ওড়াতে দেখা গেছে।
এদিকে হামলা পাল্টা হামলা অব্যাহত চলছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রুশ বাহিনী বিমান, কামান ও ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনের ১৪৫টি এলাকায় সামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে।
এসব হামলা চালানো হয়েছে ইউক্রেনের খেরসন, দোনেৎস্ক ও ক্রমাতোরস্ককে লক্ষ্য করে। এতে কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো। বিভিন্ন এলাকায় পুরোপুরি বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
জবাবে ইউক্রেন পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে স্বীকার করেছে মস্কো। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জবাবে ইউক্রেন একটি বেড় ড্রোন আক্রমণ শুরু করে এবং গত রাতে রাশিয়াজুড়ে ২৫১টি ড্রোন গুলো করে ভূপাতিত করা হয়েছে।
রুশ মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, কিয়েভ নৌবাহিনীর ড্রোন দিয়ে কৃষ্ণসাগরে আরেকটি আক্রমণের চেষ্টা করে এবং মঙ্গলবার রাতে সমুদ্রের উত্তর-পশ্চিম অংশে তাদের দুটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়।

এদিকে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক পর্যায়ে চলছে তোড়জোড়। চলতি সপ্তাহে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয় যে, মার্কিন শান্তি-প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে ক্রেমলিন জানিয়েছে, এমন খবর সত্য নয়। ক্রেমলিনের মুখপাত্র জানান, যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে সরাসরি মতবিনিময় হয়েছে যা পরবর্তী আলোচনার দরজা খোলা রাখছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, রাশিয়া কোন পর্যস্ত ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায় এবং ইউক্রেনকে কোন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিলে ভবিষ্যৎ হামলার ঝুঁকি কমবে, আলোচনায় এই দুটি বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে ব্রাসেলসে বুধবার পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। এদিন ইউক্রেনের নিরাপত্তা কাঠামো, যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি-প্রচেষ্টা এবং ইউরোপের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল ঘোষণা দেন, জোটের দুই তৃতীয়াংশ সদস্য ইউক্রেনকে প্রতিশ্রুত ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা গঠন করেছে।
এদিকে মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে রাশিয়ার গ্যাস আমদানি পুরোপুরি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বুধবার ইইউর পার্লামেন্ট এক ঘোষণায় বিষয়টি নিশ্চিত করে। বলা হয়, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ সব পাইপলাইন ও এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হবে।
এটাকে রুশ জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট। একইদিন ইইউ জানায়, পরবর্তী দুই বছরে ইউক্রেনের আর্থিক ও সামরিক চাহিদা পূরণে রাশিয়ার জব্দকৃত সম্পদ ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।