বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজভবনে শপথ নিয়েছেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর দায়িত্বভার কাঁধে নেওয়ার পরেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছেন তিনি। শনিবার নিজের প্রথম জেলা সফরের আগে নিউ টাউনে অভিনেতা-রাজনীতিক মিঠুন চক্রবর্তীর বাড়ি যান শুভেন্দু। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা দুজনের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন মহাগুরু।
গ্যারান্টি দিলেন মহাগুরু:
শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের পর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, ‘আমি বাংলার মানুষকে গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, শুভেন্দুর চেয়ে ভালো মুখ্যমন্ত্রী এই রাজ্যের জন্য আর কেউ হতেই পারে না। ও-ই সেরা। শপথ নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই ও কাজ শুরু করে দিয়েছে এবং আগামী দিনে ও-ই বাংলায় আসল পরিবর্তন নিয়ে আসবে।’
আশীর্বাদ নিতে এলেন শুভেন্দু:
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এটি শুভেন্দুর প্রথম ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে মিঠুন চক্রবর্তী যেভাবে দিন-রাত এক করে প্রচার চালিয়েছেন, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই সফর। বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘মিঠুনদা আমার চেয়ে অনেক বড়। আমি ওঁর আশীর্বাদ নিতে এসেছিলাম। আগামী দিনে আমাদের কী কী কাজ করতে হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে আমাদের রোডম্যাপের গোপনীয়তা বজায় রাখতেই তা জনসমক্ষে আনা যাবে না।’ বিজেপি নেতাদের দাবি, শারীরিক অসুস্থতা উপেক্ষা করেও মিঠুন উত্তর থেকে দক্ষিণ বঙ্গে যে ম্যারাথন প্রচার চালিয়েছিলেন, তা দলের এই জয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছে।

‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ বিতর্ক:
রাজনীতির পাশাপাশি মিঠুন চক্রবর্তীকে সম্প্রতি দেখা গিয়েছে বিবেক অগ্নিহোত্রী পরিচালিত ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ ছবিতে। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি ১৯৪৬ সালের ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’ এবং নোয়াখালীর দাঙ্গা নিয়ে তৈরি। ছবিটিকে কেন্দ্র করে গত বছর থেকেই রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীর অভিযোগ ছিল, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ছবির বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছিলেন, যার ফলে বাংলায় ছবিটি প্রদর্শনে চরম বাধা সৃষ্টি হয়েছিল।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ বিতর্ক এবং মিঠুন-শুভেন্দুর এই হাই-প্রোফাইল বৈঠক আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে কোন নতুন মোড় আনে, এখন সেটাই দেখার।