২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্য পালাবদল হয়েছে। ঘাস ফুলের জায়গায় ফুটেছে পদ্ম। ফলে রাজ্য-রাজনীতির মঞ্চেও এসেছে নানা বদল। তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব এসেছে প্রকাশ্যে। দল দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। আর এই সব কিছুর মাঝেই দেব পাড়ি দিয়েছিলেন দিল্লিতে, ফলে গুঞ্জন উঠেছিল তৃণমূল সাংসদ নাকি নয়া তৃণমূলে যোগ দিতে চলেছেন। তবে এবার এই নিয়ে মুখ খুললেন দেব। জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই থাকছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠকে দেখা যায় তৃণমূল নেতাদের। মঙ্গলবার কোলাঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে দেখা যায় দুই তৃণমূল সাংসদকে একজন হলেন মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া আর একজন হলেন ঘাটালের সাংসদ দেব। এছাড়াও এদিন কেশপুরের তৃণমূল বিধায়ক শিউলি সাহা, খড়্গপুর গ্রামীণ বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক দীনেন রায়কেও দেখা যায়।
এর মাঝেই চর্চা শুরু হয় এদিন দেব মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কথা বলবেন। কিন্তু বৈঠকে কী কী বিষয় উঠে এল, বৈঠক শেষে দেব সেই প্রসঙ্গে মুখ খোলেন।
অভিনেতা সাংবাদিকদের বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত দিয়ে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান শুরু হয়েছিল। কিন্তু আমার মনে হয়, শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে এটা শেষ হবে। আমি বহু বছর ধরে এই নিয়ে লড়াই করছি। এবার নতুন মুখ্যমন্ত্রী এসেছেন। আমি সাংসদ হিসেবে কথা বলেছি, উনি আশ্বাস দিয়েছেন এবার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান হবে।’
তবে শুরু থেকেই সৌজন্যের রাজনীতিতে বিশ্বাসী দেব। তা নায়কের কাজের মাধ্যমেও বারবার প্রতিফলিত হয়েছে। বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধিদের সম্মান দিয়েই বরাবর দেবকে চলতে দেখা গিয়েছে। এমনকী নায়ক দল-রং নির্বিশেষে তাঁর ছবিতে নানা অভিনেতা অভিনেত্রীদের সঙ্গে কাজ করেছেন। গেরুয়া শিবিরের মিঠুন চক্রবর্তী থেকে শুরু করে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, অঞ্জনা বসু, রুদ্রনীল ঘোষকে দেখা গিয়েছে তাঁর ছবিতে। তার জন্য অনেক সময়ই সরকারি সিনেমা হল নন্দনে দেবের ছবি মুক্তি পায়নি। কিন্তু তাতেও অভিনেতা পিছিয়ে যাননি।

সেই প্রসঙ্গ টেনেই তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় সৌজন্যের রাজনীতি করে এসেছি। আমি আজ পর্যন্ত আমার মঞ্চ থেকে কাউকে অপমান করিনি। ২০১৪ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত আমি এমন কোনও কাজ করিনি, যাতে আমায় আক্রমণ করা হবে।’
পাশাপাশি নায়ক তাঁর নয়া তৃণমূলে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন নিয়েও মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে আছি, উনি যতদিন বেঁচে আছেন, ততদিন আমি আছি ওঁর সঙ্গে। নতুন তৃণমূলে যাচ্ছি না। শুধুমাত্র শুভেন্দুদা কথা দিয়েছেন এবার কাজ হবে, আস্থা রাখছি। ঘাটালের মানুষের স্বপ্নপূরণ হবে এবার। ২০২৯-এর আগেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান শেষ হবে বলে কথা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।’