সরকারি হাসপাতালের রোগীদের খাবারে দৈনিক বরাদ্দ বৃদ্ধি মুখ্যমন্ত্রীর

Spread the love

West Bengal Budget 2026: সরকারি হাসপাতালের রোগীদের পাতের ডাল এতদিন যেন মানহীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছিল। কোথাও পাতলা ডাল, কোথাও আবার জলের মতো দুধ এই অভিযোগ বহু বছর ধরেই ঘুরে বেড়াচ্ছিল রোগী ও তাঁদের পরিবারের মুখে। মাছের টুকরো বলতে অনেক জায়গায় মিলত নামমাত্র এক কোয়া, আর পুষ্টিকর খাবার দুধ, কলা বা ডিমের বদলে কখনও মুড়ি-মিষ্টি দিয়েই কাজ সারার অভিযোগও উঠত বিভিন্ন হাসপাতালে। ফলে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের খাবারের মান নিয়ে এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। অবশেষে দীর্ঘদিনের সেই ক্ষোভ-অনুযোগের অবসান ঘটতে চলেছে। সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পেশ হল নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম রাজ্য বাজেট। আর প্রথম বাজেটেই রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আমূল বদলে ফেলার একগুচ্ছ ঘোষণা করল নবান্ন।

গত প্রায় আট বছর ধরে সরকারি হাসপাতালে ‘খাদ্য-যন্ত্রণার’ মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে রোগী পিছু দৈনিক বরাদ্দের সীমাবদ্ধতা। সূত্র অনুযায়ী, এতদিন সরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন একজন রোগীর খাবারের জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ৫৬ টাকা ৬৪ পয়সা। এই সীমিত বাজেটের মধ্যেই তিন বেলার খাবার দিতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই মান বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছিল না বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একাংশের। তবে রোগী ও তাঁদের পরিবারের অভিযোগ ছিল, বাজেট সীমিত হলেও ন্যূনতম পুষ্টির বিষয়টি নিশ্চিত করা উচিত ছিল। এই আবহে সোমবার বাজেট পেশের পর সাংবাদিক বৈঠকে সরকারি হাসপাতালে রোগীদের খাবারের মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উঠে আসে পিজি হাসপাতালে রোগীদের খাবার নিয়ে চিকিৎসকদের মুখেই শোনা ভয়ঙ্কর বর্ণনা। সেই ঘটনা শুনেই তারা সিদ্ধান্ত নেন রোগীদের খাবারে বরাদ্দ বৃদ্ধি করার।

খাবারের বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের হয়তো আলোচনায় আসবে না। আজ একটা বড় পূণ্যের কাজ করেছেন অর্থমন্ত্রী। সেটা হল, হাসপাতালে ৫৬ টাকায় তিনবেলা খাবার দেওয়া হত। আমি পিজিতে ভিজিটে গিয়েছিলাম। ডাক্তাররাই আমায় বলছে, দুপুরেও কুমড়ো, রাতেও কুমড়ো। আমি বললাম কেন? আগের মুখ্যমন্ত্রী তো বলতেন এটা সোনার হাসপাতাল। ওরা তখন বলল, কী করবে ঠিকাদার-সাপ্লায়াররা? ৫৬ টাকা ৪৪ পয়সা বরাদ্দ। এই টাকায় কী হবে? আমি বললাম, কত টাকা দিলে হবে? ওরা বলল, ১০৪ টাকায় মোটামুটি হবে।’ এরপরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি স্বপনদাকে বললাম, ওটা ১০৪ নয়, ১১০ টাকা করে দিন, কিন্তু রোগীরা ভালো খাবার পাক। আমরা ১১০ টাকা করে দিয়েছি। হাসপাতালে কোনও শিল্পপতি, কোনও কোটিপতি লোকের পরিবারের সদস্যরা যান না। তারা প্রাইভেটে যান। অত্যন্ত গরিব মানুষরা যান। আজ ১১০ টাকা করে ডায়েট করে দেওয়া হয়েছে। আর কী বলব…।’ নতুন বাজেট অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের ‘ফুল রাইস ডায়েট’-এর দৈনিক বরাদ্দ ৫৬.৬৪ টাকা থেকে একলাফে বাড়িয়ে ১১০ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে হাসপাতালগুলিতে রোগীদের খাবারের মানে বড় পরিবর্তন আসবে। শুধু পরিমাণ নয়, বরং পুষ্টিগুণ ও বৈচিত্র্যও বাড়ানো সম্ভব হবে।বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই স্বাস্থ্যক্ষেত্রকে পাখির চোখ করেছে নতুন সরকার। ইতিমধ্যেই রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প। এবার বাজেট বরাদ্দেও পরিকাঠামো উন্নয়নে রইল একগুচ্ছ বড় চমক। সব মিলিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সরকারের এই প্রথম বাজেট স্বাস্থ্যক্ষেত্রে সার্বিক উন্নয়নে এক নতুন যুগের সূচনা করল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *