আজ বিধানসভায় বাজেট ঘোষণার পরে অর্থমন্ত্রীকে পাশে বসিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আজ বলেন, সপ্তম বেতন কমিশনের রিপোর্ট ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। এই আবহে শুভেন্দু দাবি করেন, জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করতে পারে তাঁর সরকার। এরই সঙ্গে তিনি অষ্টম বেতন কমিশনের বিষয়েও বিচার বিবেচনা করার কথা বলেছেন। এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে রাজ্যের কর্মীদের ডিএ ফারাক নিয়ে শুভেন্দু বলেন, গত মুখ্যমন্ত্রী সরকারি কর্মীদের সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করেছেন। এরই সঙ্গে তিনি আবেদন করেন, তাঁর নতুন সরকারকে আরও কিছুটা সময় দেওয়া হোক।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আপনাদের আন্দোলনের আমিও একটা পার্ট ছিলাম। আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন টাকা পেয়ে যাবেন। বন্ধু হিসাবে কথা দিচ্ছি আমরা কেন্দ্র-রাজ্য ডিএ সমান করে দেব। বিপুল ঋণের বোঝা সামলে এগোতে হচ্ছে। পুজোর মাসেই অ্যাডভান্স পেয়ে যাবেন। স্বপন দাশগুপ্তর আরেকটি বাজেট পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। সপ্তম পে কমিশন লাগু হবে আগামী অর্থবর্ষে।’
এদিকে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। দীর্ঘদিনের দাবি মেনে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০ শতাংশ মহার্ঘভাতা (ডিএ) বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে ডিএ-র দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের একাংশ। সেই আবহে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০ শতাংশ মহার্ঘভাতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এই নতুন হার কার্যকর হবে বলে তিনি জানান।
বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মীরা ২২ শতাংশ হারে ডিএ পান। নতুন ঘোষণার ফলে সেই হার বেড়ে ৪২ শতাংশে পৌঁছাবে। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে ডিএ-র ব্যবধানও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ডিএ এবং কেন্দ্র-রাজ্যের বৈষম্য নিয়ে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, এই ঘোষণাকে তার আংশিক সমাধানের পথে বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণার পর সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। যদিও কর্মচারী সংগঠনগুলির একাংশের দাবি, এখনও কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে সম্পূর্ণ সমতা আসেনি এবং বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তবুও নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে এত বড় হারে মহার্ঘভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা কর্মীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
