গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনার বিরল কয়েকটি ছবি প্রকাশ করা এসেছে। এতে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ কিছু মুহূর্ত উঠে এসেছে। প্রতিবেদন মতে, আজ বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) প্রথম প্রহরে মিশরের রিসোর্ট শহর শারম আল-শেখের আলোচনা কক্ষের ভেতরের বিরল ছবিগুলো প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার ঠিক আগের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো দেখানো হয়েছে।
গাজায় সংঘাত বন্ধে মিশরে গত সোমবার থেকে শুরু হয় হামাস-ইসরাইল পরোক্ষ আলোচনা। টানা তিনদিনের মাথায় বুধবার (৮ অক্টোবর) মার্কিন শান্তি পরিকল্পনার প্রথম দফা কার্যকারে একমত হয় ইসরাইল ও হামাস। যা প্রথম ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিগুলোর মধ্যে একটি ছবিতে কাতারি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল থানিকে ইসরাইলি প্রতিনিধি দলের সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) নিতজান অ্যালনের সাথে করমর্দন করতে দেখা যাচ্ছে।
ছবিটিকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ দোহায় ইসরাইলি হামলার ফলে ইসরাইল ও কাতারের মধ্যে অভূতপূর্ব উত্তেজনার ঠিক এক মাস পর মিশরের এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। যার ফলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হোয়াইট হাউস থেকে ফোনে কাতারের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন।
অন্যান্য ছবিতে ইসরাইলি প্রতিনিধি দলের সব সদস্যকে দেখা গেছে, যার মধ্যে রয়েছেন কৌশল বিষয়ক মন্ত্রী রন ডার্মার এবং জিম্মি ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের জন্য ইসরাইলি সরকারের দূত গ্যাল হির্শ।
একটি ছবিতে হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতারাও আছেন, যাদের মধ্যে খলিল আল-হায়া, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গাজী হামাদ এবং জাহের জাবারিন। আরেকটি ছবি তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিনসহ তুর্কি প্রতিনিধি দলের সাথে ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফের ছবিও তোলা হয়েছে।

হামাসের চুক্তিতে সম্মত হওয়ার খবর প্রচারের ঠিক পরই ছবিগুলো প্রকাশ করে আরব সংবাদমাধ্যমগুলো। ঠিক একই সময়ে হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমে এক নাটকীয় মুহূর্তের ছবি সামনে আসে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের মাঝখানে ট্রাম্পকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একটি নোট দেন। সেই সঙ্গে রুবিও তার কানে ফিসফিসিয়ে কিছু একটা বলেন। যার ফলে ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে একটি নোট দিয়েছেন, যেখানে বলা হয়েছে যে আমরা মধ্যপ্রাচ্যে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি এবং তাদের খুব শিগগিরই আমাকে প্রয়োজন হবে।’
এর কিছুক্ষণ পরই মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি এবং ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ জানায় যে, নোটটিতে ট্রুথ সোশ্যাল একটি পোস্ট দেয়ার অনুরোধ ছিল, যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গাজা চুক্তির ঘোষণাকারী প্রথম ব্যক্তি হতে পারেন। কয়েক মিনিট পরই ট্রাম্প ঘোষণাটি প্রকাশ করেন।
ঘোষণায় বলা হয়, ‘খুব শিগগিরই সমস্ত জিম্মিকে মুক্তি দেয়া হবে এবং ইসরাইল তাদের সেনাদের একটি নির্দিষ্ট লাইন বরাবর প্রত্যাহার করবে যা একটি শক্তিশালী, টেকসই ও চিরস্থায়ী শান্তির দিকে প্রথম পদক্ষেপ। সকল পক্ষের সাথে ন্যায্য আচরণ করা হবে! এটি আরব ও মুসলিম বিশ্ব, ইসরাইল, আশেপাশের সমস্ত দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি মহান দিন এবং আমরা কাতার, মিশর ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের ধন্যবাদ জানাই, যারা এই ঐতিহাসিক এবং অভূতপূর্ব ঘটনাটি ঘটাতে আমাদের সাথে কাজ করেছেন।’